,


পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে চলনবিল

পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে চলনবিল

একটি বাংলাদেশ ডেস্কঃ দেশের ঐতিহ্যবাহী চলনবিলে পর্যটন শিল্প বিকাশে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। চলনবিলের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। তবে সম্প্রতি নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার একটি অংশ এ বিলের সৌন্দর্য উপভোগের উপযুক্ত স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

গুরুদাসপুর উপজেলায় কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় বর্ষাজুড়েই চলনবিলের এ অংশে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। আর ঈদ-পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে বিলশা পয়েন্টে নজর কাড়ে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়।

দেশের অন্যান্য বিল থেকে এ বিলের পার্থক্য হলো এটি খরস্রোতা। চলন্ত বিলের নাম অনুসারেই এটির নামকরণ চলনবিল। পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ জেলার অংশজুড়ে এ বিলের বিস্তৃতি। চারটি জেলার বড় বড় নদীর সঙেগ এ বিলের সখ্য রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে অসংখ্য খাল দিয়ে এ বিলে পানি প্রবেশ করে। এ জলরাশি চলনবিল হয়ে আবারো নদীতে গিয়ে পতিত হয়। এক সময় চলনবিল এলাকাটি ছিল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, অবহেলিত।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস চলনবিলের তাড়াশ ও গুরুদাসপুর উপজেলা দুটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেন। এ উপজেলার চাঁচকৈড় বাণিজ্য নগরী হয়ে খুবজীপুর, বালসা, চর বালসা, বামোন বাড়িয়াতে নির্মিত গুরুদাসপুর-তাড়াশ মা জননী সেতু, গণমৈত্রী সড়ক এ অঞ্চলকে দর্শনীয় স্থানের মর্যাদা দান করেছে। মূলত উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এ অঞ্চলে দর্শক আকৃষ্টের মূল কারণ। এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ এ বিলের প্রাণকেন্দ্র বিলশাকে বলা হয় চলনবিলের হৃৎপিÐ।

এটি পার্শ্ববর্তী তাড়াশ, সিংড়া এবং গুরুদাসপুর উপজেলার প্রায় জিরো পয়েন্টে অবস্থিত। বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের কাছিকাটা পয়েন্ট থেকে উল্লিখিত স্থানের দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার। গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় থেকে ৫ কিলোমিটার মাত্র। এ বিলকে আশ্রয় করে গড়ে ওঠা ‘চলনবিল জাদুঘর’ উল্লিখিত গ্রামগুলোর পাশেই অবস্থিত। চলনবিলের এ পয়েন্টে এসে দর্শনার্থীরা বিল দর্শনের পাশাপাশি জাদুঘর দেখার সুযোগ পান। এ কারণে সব ঋতুতে দেশের হাজারো সৌন্দর্যপিপাসু জনতা ভিড় জমান চলনবিলের গুরুদাসপুর বিলশা পয়েন্টে। বর্ষা মৌসুমে এ বিলের মনোরম পরিবেশ দর্শকদের বেশি আকৃষ্ট করে। এ মৌসুমে চলনবিলের সুবিশাল জলরাশি, উত্তাল তরঙ্গ, পাল তোলা নৌকা দেখতে উৎসুক জনতা ছুটে আসেন।

কালের গর্ভে বিলীন হতে চলা জলাশ্রয়ী গ্রামীণ জনপদের এক সময়ের জনপ্রিয় জলযান তাল গাছের গুঁড়ি দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি ‘তালের নৌকা’ চলন বিলের ঐতিহ্যের প্রতীক। বিলসার চলনবিল শুধু যে বর্ষা মৌসুমে সৌন্দর্য হাতছানি দেয় তা নয়, শুষ্ক মৌসুমে অবারিত সবুজ ফসলের দিগন্ত জোড়া মাঠ বিমোহিত করে। বর্ষায় পলিমাটি জমে সমৃদ্ধ হওয়া জমিতে ইরি ধান চাষ হয়।

বর্ষার শেষ মুহ‚র্তে শীতের আগমনীতে নানা প্রজাতির দেশি ও অতিথি পাখির কলতান শোনা যায়। প্রকৃতির লীলাভ‚মি নয়নাভিরাম গুরুদাসপুর বিলশা পয়েন্ট এ বিলের প্রাকৃতিক রূপ লাবণ্য আরো নয়নাভিরাম, মনোহর হতে পারে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে।

সম্প্রতি ব্যক্তি উদ্যোগে বিলশা বাজার সংলগ্ন বিলের মাঝখানে গড়ে উঠেছে স্বর্ণদ্বীপ নামে একটি ক্ষুদ্র বিনোদন কেন্দ্র। চলনবিলকে ছুঁয়ে দেখার নির্মল বিনোদন কেন্দ্র এটি। নাটোরের সিংড়া ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সীমন্তে অবস্থিত এই দ্বীপটি। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন এটির নাম দিয়েছেন ‘স্বর্ণদ্বীপ’। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, দেশের নানা প্রান্ত থেকে বর্ষায় চলনবিলে নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ।

পর্যটকদের অবস্থান, গাড়ি পার্কিং নিরাপত্তা সাময়িক সমস্যা হলেও স্বর্ণদ্বীপ স্থাপনের কারণে সমস্যাগুলো কমে গেছে অনেকটাই। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আ. কুদ্দুস বলেন, চলনবিল অধ্যুষিত এলাকার মানুষ আগে ছিল অবহেলিত। শেখ হাসিনার জাদুর কাঠির পরশে সারাদেশের মতো চলনবিলেও অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে চলনবিলের সৌন্দর্য আর উন্নত সব স্থাপনাকে কাছ থেকে এক পলক দেখার জন্য।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: