,


চলনবিলের কৃষকরা ভাল নেই | পিছু ছাড়ছে না অভাব অনটন!

চলনবিলের কৃষকরা ভাল নেই | পিছু ছাড়ছে না অভাব অনটন!

বিশেষ প্রতিবেদকঃ হাতে কাজ নেই, পকেটে টাকা নেই, ধানের দাম নেই, মনে আনন্দ নেই। দিন দিন দুশ্চিন্তায় পডে কৃষকরা এখন দিশাহারা।

চলনবিলের পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার সীমান্তবর্তী বন্যাকবলীত উপজেলাগুলোতে বসবাসকারী কৃষকরা বেকার জীবন যাপন করছে।

হাতে কাজ নেই, রবী শষ্য রোপনের আগ পর্যন্ত তারা বেকার। জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত তাদের হাতে তেমন কোন কৃষি কাজ থাকে না। তাছাড়া আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বন্যার পানিতে জমি নিমজ্জিত থাকে। এসময় তারা হাতের গচ্ছিত টাকা পয়সা খরচ করে সংসার চালান। প্রতিদিন তারা সকাল বিকাল চায়ের স্টলে বসে চা, বিড়ি পান, সিডি, টিভি দেখে বেকার সময় পার করেন।

এই আশ্বিন- কার্তিকের অভাবের তাড়নায় তারা মানবেতর দিনাতিপাত করছে। সরকার গরীব দুঃস্থদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরনের মহতী উদ্যোগ চালু করলেও দুঃস্থদের চাল যাচ্ছে সুস্থ্যদের পেটে। এরপরও চাহিদা অনুপাতে কার্ড সংখ্যা খুবই নগন্য। মরার উপর খড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে বাজারের দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি। বেগুন, মরিচ, আদা, রশুন থেকে শুরু করে সব ধরনের তরু তরকারির দাম এখন আকাশ ছোয়া। বিভিন্ন এনজিও, ব্যাংক বীমা থেকে ঋণ নিয়ে চলছে দরিদ্র মানুষের দৈনন্দিন জীবন। ফলে এনজিওদের ক্ষুদ্র ঋণের জালে বন্ধি হয়ে পরেছেন

চলনবিলের হাজার, হাজার অভাবী মানুষ। অভাবের তাড়নায় স্ত্রী পুত্র পরিজন ফেলে চলে গেছেন দেশের বিভিন্ন ঠিকানায় কাজের সন্ধানে।

চাটমোহর,ভাঙ্গুড়া, তাড়াশ,রায়গঞ্জ,উল্লাপাড়া,সিংড়া,বড়াইগ্রাম,গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক রায়হান আলী, মোতালেব হোসেন, আঃ আলীম, জেলহক, কোরমান আলী, মঞ্জেল সরকার, কালাম ফকির, বেল্লাল হোসেন মফিজ উদ্দিন জানান, এবারে রোপা আমন আবাদ ভালই হয়েছিল। কিন্তু ধানের দাম তহনও ৭৫০ টাকা এখনও ৭৫০ টাকা। আমরা একেবারে স্বল্প আয়ের মানুষ। বউ বাচ্চা, রোগ শোক, জামা কাপড়, হাট বাজার, আত্মীয় স্বজন ইত্যাদি খরচ এই স্বল্প আয়ের মধ্য থেকে করতে হয়।

কৃষক আজির উদ্দিন বলেন, আগে এলাকাতে কাজ না থাকলে ঢাকার কেরানীগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ ট্রলারে গিয়ে মাটি কাটার কাজ করতাম। সেটাও প্রায় বন্ধ। এখন সেখানে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলে।

তাছাড়াও ধার দেনা সহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। দিন মজুর শ্রেণীর লোকদের হাতে কোন কাজ না থাকায় অভাবী ভুমিহীনরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

তাই একদিকে ধানের দাম নেই -কর্মহীন, অফুরন্ত অভাব অন্যদিকে এনজিওদের ঋণের বোঝা। এ সব মিলে কার্তিকের আকালে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে চলনবিলের অভাবী মানুষ।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

সর্বশেষ

%d bloggers like this: