,


চলনবিলের কৃষকরা ঝুঁকছে নতুন জাতের ধান চাষে

চলনবিলের কৃষকরা ঝুঁকছে নতুন জাতের ধান চাষে

মো. আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুরঃ শস্য ভান্ডার খ্যাত ঐতিহ্যবাহী চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কৃষকরা অধিক ফলনের আশায় ইরি-বোরো ধানের প্রচলিত জাত ছেড়ে উন্নত নতুন জাতের ধান চাষের দিকে ঝুঁকেছে।

গত বছর স্বল্প পরিসরে নতুন জাতের ধান ব্রি-৬৩, ৮১, ৮৯ ও ৭৪ চাষ শুরু হয়। আশানুরুপ বেশি ফলন পাওয়ায় এ বছরেও উৎসাহিত হয়ে চাষাবাদ শুরু করেছে কৃষকরা।

উপজেলার চাষীরা দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত ইরি-বোরো ধানের আবাদ করে আসছেন। চলনবিলের অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতেও ধান চাষ হচ্ছে। এ বছর মওসুমের শুরু থেকেই বেশিরভাগ কৃষক নতুন জাতের উদ্ভাবিত ধানের বীজ সংগ্রহ করেছেন। বিশেষ করে জিরা শাইলের বিপরিতে ব্রি ধান-৮১ জাত।

ব্রি-২৮ ও ২৯ এর বিপরিতে ৫৮, ৮১ ও ৮৪ জাত এবং স্বর্নার বিপরিতে ব্রিধান-৮২ চাষ করছেন। তবে ইরি-বোরো ধানের চেয়ে নতুন জাতের ধান বিঘা প্রতি ২/৩ মন বেশি উৎপাদন হয় এবং এক সপ্তাহ আগেই কাটা যায়। চাল চিকন হওয়ায় বাজারে নতুন জাতের ধানের চাহিদা ও দাম বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই ধানে পোকা মাকড়ের আক্রমন কম থাকায় বালাই নাশক অপেক্ষাকৃত কম ব্যবহার করতে হয়।

তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনশীল। ফলে নাটোর জেলাসহ চলনবিলের কৃষকদের মাঝে আশা জাগিয়েছে নতুন জাতের ধান।

নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ইরি-বোরো মওসুমে উপজেলা ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে গুরুদাসপুরে ৪ হাজার ৮২ হেক্টর, নাটোর সদরে ২ হাজার ৭০৮ হেক্টর, নলডাঙ্গায় ৭ হাজার ৮৬০ হেক্টর, সিংড়ায় ৩৪ হাজার ৫৬৩ হেক্টর, বড়াইগ্রামে ৪ হাজার ৯৯৫ হেক্টর, লালপুরে ১ হাজার ১০১ হেক্টর এবং বাগাতিপাড়ায় ৬৮৪ হেক্টর।

এদিকে চলতি ২০১৮-১৯ বোরো মওসুমে নাটোরে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৭০ মে.টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ৫৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে কৃষি বিভাগ। ইতিমধ্যেই বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চলনবিলের কৃষকরা।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, গত বছর উপজেলার ৩০ জন কৃষক নতুন জাতের ধান চাষ করেছিলেন। এতে তাঁরা বেশ লাভবান হয়েছিলেন।

নতুন জাতের ধান চাষীদের মধ্যে খাঁকড়াদহ গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন, আনন্দনগর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বলেন, পৈত্রিক সূত্রে তারা প্রচলিত ইরি-বোরো ধানের আবাদ করে অভ্যস্ত।

উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে ২ বিঘা করে নতুন জাতের ধানের আবাদ করে লাভবান হয়েছিলেন। এ বছর বেশি জমিতে নতুন জাতের ধানের চারা রোপন করেছেন।

একই রকম তথ্য জানান চলনবিলের কৃষক আব্দুল বারি, সোলেমান, ইদ্রিস আলীসহ অনেকে।

নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যেই নতুন জাতের অধিক ফলনশীল ও রোগ বালাই সহনশীল ধানের চাষ জেলা তথা চলনবিল জুড়ে আলোড়ন ফেলেছে। এ বছর বেশি আবাদ হলে এই জাতের বীজ উৎপাদনও বাড়বে। এতে কৃষক ভালো এবং গুনগত মানের বীজ সহায়তা পাবে।

আগামীতে বীজের জন্য অপেক্ষা বা ধর্না দিতে হবেনা। ১৫ ডিসেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত রোপনের কার্যক্রম চলবে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবারে বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষি অধিদপ্তর। সেই লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

সর্বশেষ

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: