,


হাসপাতালের ছাদের পলেস্তরা খসে শিশুসহ আহত ৩

হাসপাতালের ছাদের পলেস্তরা খসে শিশুসহ আহত ৩

ডেস্ক রিপোর্টারঃ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে ২ শিশুসহ ৩ জন আহত হয়েছে। এতে হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে রোগী বের করে বারান্দা ও ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডের দরজা তালা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোটালীপাড়া উপজেলার মাঝবাড়ি গ্রামের উজ্জ্বল মোল্লার পুত্র তামিম মোল্লা (৭) আহত হয়। এ সময় তামিমের খালা কুলসুম বেগম (১৯) ও খালাতো বোন শারমিন খানমও (৬) আহত হয়।

তামিম কোটালীপাড়া উপজেলার লোহারঅংক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্র। তামিম মোল্লাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। অপর দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

আহত তামিমের মা তানজিলা বেগম বলেন, আমার ভাই হেলাল মাতুব্বর অ্যাপেনডিক্সে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপতালে ভর্তি হয়েছে। আমার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে তাকে দেখতে হাসপতালে আসি। এ সময় আমার বোন কুসুম ও তার মেয়ে শারমিনও ছিল। হঠাৎ করে ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে আমার ছেলে, বোন ও ভাগ্নি আহত হয়। আমার ছেলের মাথা ফেটে গেছে। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে।

রোগীর স্বজন পারভীন বেগম বলেন, হাসপাতালে আমরা আসি জীবন রক্ষা করতে। কিন্তু এখানে এসে দেখছি ভবনের বেহাল দশা। এখানে চিকিৎসক, নার্স, রোগীসহ হাসপাতালের সবাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। যেকোনো সময় ছাদ ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

রোগীর আরেক স্বজন করিমন বেগম বলেন, বারন্দায় ফ্যান নেই। গরমে আমদের রোগীর প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স বর্ণালী রায় বলেন, মঙ্গলবার ওয়ার্ডে কাজ করার সময় ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে। ওই বাচ্চাটির মাথা ফেটে রক্ত পড়ছিল। আমি মাথা চেপে ধরে বাচ্চাটিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেই। এর আগেও ফ্যান পড়ে নার্স আহত হয়েছে। এ ছাড়া ছাদের পলেস্তার প্রায়ই খসে পড়ে অনেকে আহত হয়েছেন। আমরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। এখন রোগী এলোমেলো করে বারান্দা, ফ্লোরে রাখা হয়েছে। হাতে ফাইল নিয়ে রোগীকে নাম ধরে খুঁজে বের করতে হচ্ছে। ঝুঁকির মধ্যে এখন কাজ আরো বেশি করতে হচ্ছে।

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সুশান্ত বৈদ্য বলেন, ওই শিশুটিকে সব ধরনের সহায়তার পাশাপাশি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমরা ওষুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। দুই ওয়ার্ড থেকে রোগী বের করে বারন্দা ও ফ্লোরে রাখা হয়েছে।

হাসপতালের নতুন ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে রোগী স্থানাস্তর করতে পারলে এ ঝুঁকি নিরসন হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: