,


ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষে ইউপি সদস্যসহ আহত ১০
ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষে ইউপি সদস্যসহ আহত ১০

ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষে ইউপি সদস্যসহ আহত ১০

বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনা ৮নং সদর ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষ।
বরগুনা সদর উপজেলার ৮নং সদর ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসীর সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত ইউপি সদস্য নায়েব গোলাম মোস্তফা অরুনকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাগকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরীব ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সরকারের বিশেষ বরাদ্ধের আওতায় ভিজিএফ চাল বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ৮টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যানকে মুক্ত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বরগুনা সদর ইউনিয়নের চার হাজার ২৭টি পরিবারের লোকজন ভিজিএফের চাল সংগ্রহ করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে জড়ো হন। এরপর বিকাল ৩টা থেকে ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাগ এলাকাবাসীর মধ্যে চাল বিতরণ শুরু করেন। এসময় চেয়ারম্যান ৩০ কেজির বস্তা ঢেলে বালতি দিয়ে মেপে ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু করেন। এসময় ইউপি সদস্য নায়েব গোলাম মোস্তফা অরুন ও মো. সিদ্দিকুর রহমান সেখানে উপস্থিত হলে তাদের কাছে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন বালতি দিয়ে মেপে চাল দিলে পরিমাণে কম পাওয়া যায়। তাই দুই জনের নাম একত্রে নিয়ে এক বস্তা করে চাল দেওয়ার অনুরোধ করেন তারা। এলাকাবাসীর অনুরোধে ইউপি সদস্যরা দুই নামের পরিবর্তে এক বস্তা করে চাল বিতরণ শুরু করেন। এসময় সেখানে উপস্থিত চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাগ এতে বাধা দেন এবং ইউপি সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এসময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকা বহিরাগত কিছু লোক ইউপি সদস্য নায়েব গোলাম মোস্তফা অরুণসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর ওপর হামলা করে। এতে এলাকাবাসী ও চেয়ারম্যানের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গীদের চেয়ারম্যানের কক্ষে অবরুদ্ধ করে বাইরে থেকে তালা মেরে দেয়ে। এসময় এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ভাঙচুর করেন ও চেয়ারম্যানের সেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করেন।
বরগুনা ৮নং সদর ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষ
বরগুনা ৮নং সদর ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষ
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ইউপি সদস্য ছাড়াও কিছু স্থানীয় ব্যক্তি আহত হয়। পরে রাত ৮টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করেন। উভয় পক্ষের অভিযোগ শুনে শুক্রবার সকাল ১০ থেকে তার এর উপস্থিতিতে সঠিকভাবে চাল বিতরণের প্রতিশ্রুতি দেন। এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত ইউপি সদস্য নায়েব গোলাম মোস্তফা অরুন বলেন, ‘আমরা যাওয়ার আগেই চেয়ারম্যান নিজের ইচ্ছেমতো চাল বিতরণ শুরু করেন। আমরা গিয়ে এলাকাবাসীর দাবি আমলে নিয়ে দুই নামে এক বস্তা করে চাল দিয়ে দিতে চাইলে তাতেও বাধা দেন তিনি। এসময় আমরা এর প্রতিবাদ করলে তার সঙ্গে থাকা বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে চর, লাথি, কিল, ঘুষি দিয়ে আহত করে।’
সেখানে উপস্থিত ইউপি সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘চেয়ারম্যান ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে বালতি দিয়ে মেপে চাল বিতরণ শুরু করেন। বিষয়টির প্রতিবাদ করায় আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। আমাদের এক সদস্যকে তার সন্ত্রাসীরা মারধর করে। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান ও পরিষদে হামলা চালায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু এই ভিজিএফের চালই নয়। এর আগেও ঘূর্ণিঝড় ফণীর বরাদ্ধের চাল তিনি এখনও বিতরণ করেননি। এছাড়া বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে একটি দুর্নীতির আঁতুরঘরে পরিণত করেছে। এর প্রতিবাদ করলেই হামলা শিকার হতে হয় আমাদের।’
আরেক ইউপি সদস্য রিয়াজুল করিম মনির বলেন, ‘চেয়ারম্যান চাল আত্মসাতের জন্য বালতি দিয়ে মেপে বিতরণ করছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় তার ক্যাডাররা আমাদের ওপর হামলা করেছে। চেয়ারম্যানের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা সাত জন ইউপি সদস্য অবস্থান নিয়ে দুদকসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছি। আমরা চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিচার চাই।’
এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাগ বলেন, ‘আমি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে চাল বিতরণ করছিলাম। কতিপয় ইউপি সদস্য আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।’
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। কোনও পক্ষ থানায় অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) আনিচুর রহমান বলেন, ‘ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার আমার উপস্থিতিতে থেকে চাল বিতরণ হবে।’

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: