,


দেখুন এই মেয়েটি কোনো দিন কলেজে ভর্তি হবে না,কিন্তু কেন?
দেখুন এই মেয়েটি কোনো দিন কলেজে ভর্তি হবে না,কিন্তু কেন?

দেখুন এই মেয়েটি কোনো দিন কলেজে ভর্তি হবে না,কিন্তু কেন?

ডেস্ক রিপোর্টারঃ  কলেজে আর কোনো দিন ভর্তি হবে না তানজিনা আক্তার। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তানজিনা তার মা ছাহেলা বেগমকে নিয়ে ফার্মগেটের বাবুল টাওয়ারের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। তাদের যাওয়ার কথা ছিল বাংলামোটরে। হঠাৎ করে স্বাধীন পরিবহন নামের একটি বাস তানজিনাকে চাপা দেয়। বাসচালক গাড়ি না থামিয়ে তানজিনাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানজিনা মারা যায়।

তানজিনাকে বাসচাপা দিয়ে মেরে ফেলার ঘটনার মামলায় বাসচালক আবদুল গনিকে শনিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন।

তেজগাঁও থানা-পুলিশ আদালতকে এক প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, তানজিনা তার মাকে নিয়ে বাবুল টাওয়ারের সামনে নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে ছিল। তখন স্বাধীন পরিবহনের বাসচালক আবদুল গনি বেপরোয়া গতিতে এসে তানজিনাকে চাপ দেন। চাপা দেওয়ার পরও চালক বাস না থামিয়ে তানজিনাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। বাসের চাপায় তানজিনার বুক, পেট, হাত-পাসহ বাঁ পাশ গুরুতর জখম হয়। তখন পথচারীদের সহায়তায় মা ছাহেলা তানজিনাকে প্রথমে ফার্মগেটের আলরাজী হাসপাতালে নিয়ে যান। তানজিনার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তানজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তানজিনার চাচা আলাউদ্দিন শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, তানজিনার মৃত্যুর পর তাঁর মা ছাহেলা বেগম, বাবা হাফিজ উদ্দিন পাগলপ্রায়। তানজিনার মৃত্যুর জন্য দায়ী বাসচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।

আলাউদ্দিন জানান, তানজিনার বাবা হাফিজ উদ্দিন নাখালপাড়ায় একটি মুদি দোকান করেন। ছাহেলা গৃহিণী। মেয়েকে নিয়ে তাঁদের অনেক স্বপ্ন ছিল।

তানজিনার চাচাতো বোন রোকেয়া খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, তানজিনা চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সে এবার ঢাকার শাহিনবাগের সিভিল অ্যাভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করেছে। পরীক্ষা দিয়েই সে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর চলে যায়। সেখানকার স্থানীয় একটি কলেজে সে ভর্তি হতে চেয়েছিল। কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় আসে। তার স্কুল থেকে মার্কশিটসহ যা যা দরকার তা তোলে তানজিনা।

আক্ষেপের সুরে রোকেয়া বললেন, বড় ভালো মেয়ে ছিল তানজিনা। বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে চাঁদপুরে ঈদ করতে চেয়েছিল সে। অথচ বাসচালক তানজিনাকে মেরে ফেললেন। বাসচালক গনির কঠিন শাস্তি চান তিনি। 

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: