,


গোপালগঞ্জে ধানক্ষেতে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ : হাসপাতালে তরুণী

৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনার বামনা উপজেলার দক্ষিণ খোলপটুয়া গ্রামে দ্বিতীয় শ্রেলিপড়ুয়া ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব নুরুল আলম কাজীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. জসীম উদ্দিনসহ এলাকার প্রভাবশালীরা সালিস ব্যবস্থার নামে বিপুল পরিমাণ টাকার প্রলোভনে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে এ ঘটনায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বামনা থানায় শিশুটির পরিবারের পক্ষে কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি।
ধর্ষণচেষ্টার শিকার শিশুটি অভিযোগ, গত বুধবার রাতে সে একই বাড়ির দাদু সম্পর্কের নুরুল আলম কাজীর ঘরে তার মেয়ের সাথে ঘুমাতে যায়। রাতে প্রচণ্ড গরমে এক বিছানায় ঘুমাতে কষ্ট হলে শিশুটি ঘরের অন্য একটি চৌকিতে একা ঘুমায়। ভোররাতে নুরুল আলম কাজীর স্ত্রী নামাজ পড়তে যাওয়ার সুযোগে দাদু নুরুল আলম শিশুটির বিছানায় যায় ও তাকে জোড়পূর্বক চেপে ধরে। এ সময় তার মুখ চেপে ধরে ধরে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তবে শিশুটি ভয়ে এ ঘটনাটি কাউকে জানাতে সাহস পায়নি। পরদিন দুপুরে শিশুটি বাড়ির পেছনের খালে গোসল করতে গেলে ওই নুরুল আলম কাজীও সেখানে গোসল করতে যায়।

এই সময় পুনরায় তিনি ওই শিশুটির শরীরে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এই ঘটনাটি শিশুটির বাবা দেখতে পায়। পরে শিশুটির কাছে থেকে পরিবারের লোকজন জানতে পারে বিভিন্ন সময় তিনি ওই শিশুটির সাথে এমন আচারণ করতেন।
শিশুটির বাবা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে খালে গোসল করার সময় দূর থেকে দেখি নুরুল আলম চাচায় আমার শিশুকন্যাকে পানির মধ্যে কোলে নিয়ে আছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিচ্ছে। এ সময় আমি কাছে গেলে ওকে ছেড়ে দেয়। পরে মেয়ের কাছে জিজ্ঞাসা করলে ওর ওপর নুরুল আলমের লোলুপদৃষ্টির বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানালে গত শুক্রবার তারা সালিসের নামে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত নুরুল আলম কাজীর সাথে যোগাযোগ করতে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. জসীম উদ্দিনের কাছে প্রথমে এ ঘটনাটি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন, পরে তিনি যখন বুঝতে পারেন সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জেনে গেছে তখন তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। কিন্তু সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
এ ব্যপারে ৩ নম্বর রামনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ. খালেক জমাদ্দার বলেন, এ ঘটনাটি আমার কাছে এখন পর্যন্ত কেউ জানায়নি। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।
বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, শিশু ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ আমায় জানায়নি এমনকি কোনো অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: