,


পাখির আঘাতে ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণ

পাখির আঘাতে ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণ

ডেস্ক রিপোর্টারঃ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ড্যাশ-৮ মডেলের একটি উড়োজাহাজ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। ৭০ জন আরোহী নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বিজি ১৪৩৩ ফ্লাইটের ড্যাশ উড়োজাহাজটি আজ সোমবার সকাল আটটা ১৭ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা আকাশে থাকার পর সকাল নয়টা ১৭ মিনিটের দিকে বিমানটি জরুরি অবতরণ করে। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাখি আঘাত করায় বিমানটিকে পাইলট জরুরি অবতরণ করিয়েছেন। পরে আজ দুপুর ১২টার দিকে আবারও ওই বিমান ৭০ আরোহীকে নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যায়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ (জনসংযোগ) প্রথম আলোকে বলেন, ‘হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আজ সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে বিজি ১৪৩৩ ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। টেক অফের পর ককপিট ক্রু লক্ষ করেন বার্ড হিট (পাখি আঘাত) হয়েছে। পরবর্তীতে পাইলট গন্তব্য না গিয়ে পুনরায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। উড়োজাহাজটি পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে আবার গন্তব্যে যাত্রা করেছে।’

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সূত্রে জানা গেছে, উড়োজাহাজটি সকাল আটটার দিকে ঢাকা ছেড়ে যায়। এ সময় উড়োজাহাজ থেকে একটা শব্দ পাওয়া যায়। পাইলট ভেবেছিলেন সামনের চাকা ফেটে গেছে। বিমানটি প্রথমে ঢাকা ছেড়ে প্রায় চট্টগ্রামের দিকে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার ঢাকার দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসেন পাইলট। সকাল সোয়া নয়টার দিকে এটি শাহজালাল বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। পরে দেখা গেছে, বিমানটির চাকা ফেটে যায়নি। উড়োজাহাজের ককপিটের সামনের অংশে একটি পাখি আঘাত করেছিল। ককপিটের সামনে কিছুটা রক্ত লেগে থাকতে দেখা গেছে। উড়োজাহাজটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তবে জরুরি অবতরণের কারণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্যান্য ফ্লাইট চলাচলে কোনো অসুবিধা হয়নি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, বিমানটি জরুরি অবতরণ করেছে ঠিকই। তবে রানওয়েতে বিমান ওঠানামা বন্ধ ছিল না। স্বাভাবিকই ছিল।

কানাডার বোমবারডিয়ার কোম্পানির তৈরি ড্যাশ-৮ মডেলের উড়োজাহাজের ভাগ্য এ দেশে খুব একটা ভালো নয়। বিশ্বব্যাপী ছোট এয়ারক্রাফট হিসেবে ড্যাশ-৮-এর খ্যাতি থাকলেও বাংলাদেশে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে এই মডেলের উড়োজাহাজ। সর্বশেষ গত ৮ মে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশ বিমানের এই মডেলের একটি বিমান ছিটকে পড়ে রানওয়েতে। প্রাণে বেঁচে যান বিমানের ৩৩ জন আরোহী। তবে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ১৪ জন। এর আগে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর ড্যাশ-৮ মডেলের উড়োজাহাজ নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের ৫ ক্রুসহ ৭১ জন আরোহীর একটি ফ্লাইট অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। ওই দিন সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় বিমানের ফ্লাইটটি। উড্ডয়নের পর ছয় হাজার ফুট ওপরে উঠলে ড্যাশের একটি চাকা খুলে যায়। পরে চাকা খোলা অবস্থায় বিমানটি ঢাকার দিকে রওনা হয়। পাইলট ও ফার্স্ট অফিসারের দক্ষতায় সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যান যাত্রীরা। এ ছাড়া চলতি বছরের ৩১ মার্চ বিমানের ড্যাশ-৮-এর একটি উড়োজাহাজ সিলেট থেকে ঢাকায় রওনা দেয়। কিছুক্ষণ পরই চাকায় ত্রুটি টের পান পাইলট। পরে শাহজালাল বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেন তিনি।

ইয়াঙ্গুনের দুর্ঘটনার আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে ড্যাশ-৮ মডেলের তিনটি উড়োজাহাজ ছিল। ওই দুর্ঘটনার পর বিমানবহরে দুটি ড্যাশ-৮ আছে। কিছুদিনের মধ্যে আরও তিনটি উড়োজাহাজ যুক্ত হবে বিমানের বহরে।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: