,


ইংল্যান্ডকে পরাজিত করেই জয়ের মুখ দেখল পাকিস্তান

ইংল্যান্ডকে পরাজিত করেই জয়ের মুখ দেখল পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্কঃ জিততে রেকর্ড গড়তে হতো ইংল্যান্ডকে। জো রুট ও জস বাটলারের সেঞ্চুরিতে আশা জাগিয়েছিল দলটি। তবে উজ্জীবিত পাকিস্তানের সঙ্গে পেরে উঠল না স্বাগতিকরা। বাজে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা সরফরাজ আহমেদের দল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভাঙল ব্যর্থতার বৃত্ত।

নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে মঙ্গলবার রোমাঞ্চকর ম্যাচে ১৪ রানে জিতেছে পাকিস্তান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শর্ট বলে গুঁড়িয়ে যাওয়া পাকিস্তান এবার বাউন্সার সামলেছে ঠিকঠাক। ব্যাটসম্যানদের প্রায় সবাই রান পেয়েছেন, গড়েছেন জুটি। আগের ম্যাচে ১০৫ রানে গুটিয়ে যাওয়া দলটি ঘুরে দাঁড়িয়ে তোলে এ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৪৮ রান।

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পেরেছে কোনো দল; ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ড। দারুণ খেললেও রেকর্ড ভাঙতে পারেনি ইংল্যান্ড, থেমেছে ৯ উইকেটে ৩৩৪ রানে। তাতে ওয়ানডেতে টানা ১১ ম্যাচ হারার পর জয় পেয়েছে পাকিস্তান।

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মর্গ্যান বলেছিলেন, রান তাড়া করতে খুব পছন্দ করেন তারা। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে দেশের মাটিতে রান তাড়ায় কোনো ম্যাচ হারেনি ইংল্যান্ড। রুট-বাটলারের দারুণ দুটি ইনিংসের পরও তাতে ছেদ পড়লো।

এর আগে শর্ট বলের বিপক্ষে লড়াইয়ে পাকিস্তানকে পথ দেখান ইমাম-উল-হক ও ফখর জামান। যথারীতি আক্রমণাত্মক ছিলেন ফখর। দেখেশুনে খেলছিলেন ইমাম। কঠিন সময় পার করে দিয়ে অফ স্পিনার মইন আলির বলে ফিরেন তারা।

শুরু থেকে সাবলীল ছিলেন বাবর আজম। একটু নড়বড়ে ছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ। ১৪ রানে ক্যাচও দিয়েছিলেন তিনি। জেসন রয়ের ব্যর্থতায় বেঁচে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে ফিরে পান নিজেকে। জমে উঠে তৃতীয় উইকেট জুটি।

পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় ছিলেন বাবর। চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৬৩ রান করা টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন মইন।

সরফরাজের সঙ্গে আরেকটি ভালো জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন হাফিজ। পাকিস্তান পায় বড় সংগ্রহের ভিত। আট চার ও দুই ছক্কায় ৮৪ রান করা হাফিজকে থামিয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন মার্ক উড।

পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর বেশিক্ষণ টিকেননি সরফরাজ। পাকিস্তান অধিনায়ক ৪৪ বলে ৫ চারে করেন ৫৫ রান। শেষের দিকে নিয়মিত উইকেট হারালেও সবার ছোট ছোট অবদানে ৩৪৮ পর্যন্ত যায় পাকিস্তান। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটাই সর্বোচ্চ রান। আগের সেরা ছিল গত আসরে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার ৯ উইকেটে ৩৪২।

বিশ্বকাপে এরচেয়ে বড় ইনিংস পাকিস্তানের আছে আর একটি। ২০০৭ আসরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩৪৯।

চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে আউটফিল্ডে চারটি ক্যাচ নেন ক্রিস ওকস। ইংল্যান্ডের এই পেসার নেন তিনটি উইকেটও।

শাদাব খান লেগ স্পিনে বোলিং শুরু করে নিজের দ্বিতীয় ওভারে ফিরিয়ে দেন রয়কে। দ্রুত ফিরতে পারতেন রুট। মোহাম্মদ আমিরের বলে স্লিপে বাবরকে ব্যক্তিগত ৯ রানে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি।

রানের জন্য ঝটফট করা জনি বেয়াস্টোকে থামান ওয়াহাব রিয়াজ। পঞ্চম বোলারের ঘাটতি দারুণভাবে পূরণ করেছেন দুই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার হাফিজ ও শোয়েব মালিক। অধিনায়ক মর্গ্যানকে বোল্ড করেন হাফিজ। মালিকের শিকার বেন স্টোকস।

১১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান রুট ও বাটলার। পঞ্চম উইকেটে গড়েন ১৩০ রানের জুটি। শুরুতে বেঁচে যাওয়া রুটের ব্যাট থেকে আসে চলতি আসরের প্রথম সেঞ্চুরি। তাকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শাদাব। রুট ১০৪ বলে ১০ চার ও এক ছক্কায় করেন ১০৭ রান।

পাকিস্তানকে অনেকবার ভুগিয়েছেন বাটলার। দলটির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের রেকর্ড ৪৬ বলে সেঞ্চুরি আছে তার। আরেকটি সেঞ্চুরি আছে ৫০ বলে। এবার তিন অঙ্কে গেলেন ৭৫ বলে। গড়লেন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডে হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।

সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পরের বলে আমিরকে ওড়ানোর চেষ্টায় ফিরেন বাটলার। কিপার-ব্যাটসম্যানের ১০৩ রানের ইনিংস গড়া ৯ চার ও দুই ছক্কায়।

মইন আলিকে ২ রানে ও ১২ রানে ওকসকে জীবন দিয়ে নিজেদের কাজটা নিজেরাই কঠিন করে তুলেছিল পাকিস্তান। তবে শেষের দিকে ওয়াহাব-আমিরের দারুণ বোলিংয়ে জয় তুলে নেয় তারা। অভিজ্ঞ ওয়াহাব একটু খরুচে বোলিংয়ে ৮২ রানে ৩ উইকেট নেন। দুটি করে উইকেট নেন শাদাব ও আমির।

ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে নিজেকে মেলে ধরে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন হাফিজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩৪৮/৮ (ইমাম ৪৪, ফখর ৩৬, বাবর ৬৩, হাফিজ ৮৪, সরফরাজ ৫৫, আসিফ ১৪, মালিক ৮, ওয়াহাব ৪, হাসান ১০*, শাদাব ১০*; ওকস ৮-১-৭১-৩, আর্চার ১০-০-৭৯-০, মইন ১০-০-৫০-৩, উড ১০-০-৫৩-২, স্টোকস ৭-০-৪৩-০, রশিদ ৫-০-৪৩-০)

ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৩৪/৯ (রয় ৮, বেয়ারস্টো ৩২, রুট ১০৭, মর্গ্যান ৯, স্টোকস ১৩, বাটলার ১০৩, মইন ১৯, ওকস ২১, আর্চার ১, রশিদ ৩*, উড ১০*; শাদাব ১০-০-৬৩-২, আমির ১০-০-৬৭-২, ওয়াহাব ১০-০-৮২-৩, হাসান ১০-০-৬৬-০, হাফিজ ৭-০-৪৩-১, মালিক ৩-০-১০-১)

ফল: পাকিস্তান ১৪ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ হাফিজ

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: