,


উখিয়া চাঞ্চল্যকর ইমন হত্যা মামলার প্রধান আসামী দীপক চেয়ারম্যান সহ ৫জন কারাগারে
উখিয়া চাঞ্চল্যকর ইমন হত্যা মামলার প্রধান আসামী দীপক চেয়ারম্যান সহ ৫জন কারাগারে

উখিয়া চাঞ্চল্যকর ইমন হত্যা মামলার প্রধান আসামী দীপক চেয়ারম্যান সহ ৫জন কারাগারে

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ উখিয়া নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম চাঞ্চল্যকর ইমন হত্যা মামলার এজাহার ভূক্ত আসামী ৭ জনের জামীন নামন্জুর করে ৫ জন কারাগারে।


বাকী ২জন আসামী সমিরন বড়ুয়া ও মো:শাহাজান ড্রাইভার পলাতক রয়েছে।
৫জনেরর মধ্যে ইমন হত্যার মূল হোতা প্রধান আসামী সাবেক চেয়ারম্যান দীপক বড়ুয়া দিপু, বাবুল বড়ুয়া,প্রদ্বীপ বড়ুয়া সহ ৫জনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
আসামীরা গ্রেপ্তার হওয়ায় খবর পেয়ে এলাকার সাধারন জনগন আনন্দ মিছিল বের করেন ও হত্যাকারিদের সর্বোচ্চ শাস্থি দাবি করেন।


গত ২৪-০৪-২০১৯ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯:০০ ঘটিকার সময় ৩নং ঘুমধুম ইউপি ২৬৮ নং রেজু মৌজার মংজয় পাড়াস্থ ১নং আসামী দীপক বড়ুয়ার মালিকানাধীন
সমিলের দক্ষিণ পার্শ্বে রাস্তার উপরে উখিয়া উপজেলা ভালুকিয়া গ্রামের ইমন বড়ুয়াকে জায়গা-জমি ও পূর্ব শত্রুুতার জের ধরে সুপরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়।
অকালে ঝরে পড়ল একটি তাজা প্রাণ! অল্প বয়সে স্বামীর রক্তাক্ত লাশ, বৃদ্ধ বয়সে অল্প বয়সী একমাত্র সন্তানের রক্তাক্ত লাশ ; কি অপরাধ করেছিল জনগণের সেবক জনপ্রতিনিধি পুতুল রাণী বড়ুয়া!

ইমন বড়ুয়ার জন্ম উখিয়া উপজেলার ভালুকিয়া গ্রামে। মা পুতুল রাণী বড়ুয়া ৩০ বৎসরের অধিককাল ধরে আজ অব্দি পর্যন্ত জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে মহিলা মেম্বার নির্বাচিত হয়ে – জনগণের সেবা করে আসছেন। বড়ুয়া হয়েও বাসায় আগত মুসলমানদের জন্য নামায পড়ার ব্যবস্থা রেখেছেন, তৈরি করেছেন ইবাদতখানা। আজ থেকে ২৫ বছর আগে ভালুকিয়া বাজারে ঘাতকের আঘাতে নির্মমভাবে খুন হয় তার স্বামী ভবতোষ বড়ুয়া । স্বামীর মৃতোুর পর নিজের স্নেহ মমতাকে জলাঞ্জলী দিয়ে দুখিনী মা তার একমাত্র সন্তানের জীবনরক্ষার্থে ইমন বড়ুয়াকে সবসময় গ্রামের বাইরে রাখতেন। কয়েক বছর আগে ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক Lina Andriasih এর সাথে ইমন বড়ুয়ার বিয়ে হয়। সে ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্মলাভ করে। ইন্দোনেশিয়া আর বাংলাদেশে ইমন বড়ুয়া প্রায়ই যাওয়াআসা করত। কিছুদিন আগে সে তার মাকে দেখতে বাংলাদেশে আসে। দু’এক মাস পর সে আবার পাড়ি জমাত ইন্দোনেশিয়ায় অপেক্ষমান তার স্ত্রী ও সন্তানের কাছে। নিয়তির একি নির্মম পরিহাস, আর পাড়ি জমানো হলোনা ইমন বড়ুয়ার।

খুনিরা সুপরিকল্পিতভাবে ইমন বড়ুয়াকে উখিয়া থানার আওতাধীন এলাকা থেকে নামমাত্র কয়েকগজ দূরে নিয়ে গিয়ে, নাইক্ষ্যংছড়ি থানা এলাকায় নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যার পর খুনীরা একটি ডাম্পারযোগে উখিয়া থানার অন্তর্গত ইমন বড়ুয়ার নিজ গ্রাম ভালুকিয়া বাজারে তার নিতর দেহ ফেলে দিয়ে বীরদর্পে চলে যায়। যার দরুণ মামলাটি রুজু করতে হবে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায়। কে নিবে ইমন হত্যার প্রতিশোধ? কে হবে তার মামলার বাদী? আত্মীয় বলতে আছে তার দুখিনী মা, দু’বোন ও ভগ্নিপতি। এক ভগ্নিপতি হলেন – ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত,নৃশংসভাবে জামাত-শিবিরের হাতে খুন হওয়া স্বর্গীয় সুজন বড়ুয়ার বড় ভাই, জামাত-বিএনপি জোট সরকারের নিষ্ঠুরতম দুঃশাসনের শিকার কারানির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা ডালিম বড়ুয়া। অপরজন জেলা ছাত্রলীগ নেতা আবেদ।
বিধবার চোখের জলের কাছে আজ বর্ষার জলও হার মেনে যাবে!

খুনি সমীরণদের কঠিন সমীকরণে ইমন বড়ুয়ারা এভাবেই হারিয়ে যাই। রবীন্দ্রনাথের – “বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাদেঁ “। এ কথাটি বার বার সত্য প্রমাণিত হয় লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীন সার্বভৌম পিতা মুজিবের সোনার বাংলায় । এদিকে আমরা সাধারণ জণগন নিরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মিথ্যে স্বান্তনা দি। আর ওদিকে পুতুল রাণীরা স্বামী আর সন্তান হারানোর নির্মম যন্ত্রণা বুকে চেপে মৃত্যুর প্রহর গুণে !!
বান্দরবান জজকোর্ট এ নিহতের বড় বোন তান্নি বড়ুয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে আজ ০৯-০৬-১৯ তারিখে হত্যা মামলার এজাহার ভূক্ত আসামীদের গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: