,


পণ্য আমদানিতে বিএসএফ’র অহেতুক হস্তক্ষেপে বিলম্বিত হচ্ছে
পণ্য আমদানিতে বিএসএফ’র অহেতুক হস্তক্ষেপে বিলম্বিত হচ্ছে

পণ্য আমদানিতে বিএসএফ’র অহেতুক হস্তক্ষেপে বিলম্বিত হচ্ছে

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ পণ্য আমদানিতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর অহেতুক হস্তক্ষেপে বিলম্বিত হচ্ছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পন্য আমদানি। আর এ কাজে তাদের কে উৎসাহ যুগিয়ে যাচ্ছে বিজিবি। এ অভিযোগ দু,দদেশের বন্দর ব্যবহার কারী সকল সংগঠন সহ কাস্টমস ও বন্দর কতৃর্পক্ষের। ব্যবসায়ি সংগঠনগুলো পন্য আমদানি সহজীকরনের স্বার্থে বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডের উভয় পাশে বিএসএফ এবং বিজিবি’ র খবরদারি তুলে নেবার তাগাদা দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্য ভারতীয় সীমানা থেকে ৫০ গজ দুরুত্বের বাংলাদেশ সীমানায় একটি পন্যবাহী ভারতীয় ট্রাক ঢুকতে সময় নেয় ১০-১৫ মিনিট। পন্যবাহী ট্রাক তল্লাশীর নামে বিএসএফ নোম্যান্সল্যান্ড সংলগ্ন গেটে অহেতুক ট্রাক আটকে রাখছে।পেট্রাপোল চেকপোস্টের গেটে মাত্র ৫ গজ দুরুত্বের ব্যবধানে দু,দেশের কাস্টমস এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী গাড়ী এন্ট্রির নামে কালবিলম্বের কারনে প্রতিদিন প্রায় দেড়’শ থেকে দুই’ শ ট্রাক মাল কম আমদানী হচ্ছে। ঈদের বন্ধের আগ পর্য্যন্ত পেট্রাপোলের সি ডব্লিউ সি তে ১৭’শ পন্য বোঝাই ট্রাকের জ্যাম ছিল বলে জানান, পেট্রাপোল স্টাফ এ্যাসিয়শেনর সাধারন সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী । সম্প্রতি তা বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে বলে জানান তিনি।

ভারতের পেট্রাপোল সি ডব্লিউ সি’র পন্যগারে বর্ধিত পন্যের পন্যজট কমাতে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের দপ্তর থেকে যুগ্ম কমিশনার শহীদুল ইসলাম পেট্রাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার কে লিংকরোড়-১ ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে গত ১৪ মে একটি চিঠি দেন। ফেরত পত্রে ১৫ মে সহকারী কমিশনার এইচ এল সংগাতে অবিলম্বে তা কার্যকর করার জবাব দিলেও গত ১৫ দিনেও তা কার্যকর হয়নি। বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে পন্যজট। ঈদের টানা ৮ দিন বন্ধ থাকায় পেট্রাপোল বন্দরও কালিতলা টার্মিনালে কমপক্ষে ২৮ শ ভারতীয় পন্যবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে বলে জানান, পেট্রাপোলেরর সিএন্ডএফ ব্যবসায়ি প্রদ্বীপ ঘোষ।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি প্রক্রিয়া যশোর বেনাপোল প্রধান সড়ক ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে দু,দেশের মধ্যে চালু রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত ট্রাক চলাচলের কারনে পাসপোর্ট যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল নির্বিঘœ রাখতে গিয়ে পন্য আমদানী কম হচ্ছে বলে দু’দেশের কাস্টমস কতৃর্পক্ষ মনে করেন। কাস্টমস কর্মকর্তাদের দাবী পন্য আমদানীতে বিএসএফ এবং বিজিবি’র অহেতুক নাক গলানো উচিত নয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিজস্ব কাজ ফেলে বৈধভাবে পন্য আমদানির ক্ষেত্রে অহেতুক বাঁধা সৃস্টি করছে।

এব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমসের জনৈক কর্মকর্তা বলেন, বিএসএফ এবং বিজিবি’র এর বাঁধার কারনে প্রতিটি গাড়ি বাংলাদেশে ঢুকতে কমপক্ষে ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় নস্ট হচ্ছে। ভারতীয় কাস্টমস ছাড় প্রদানের পর পন্যবাহী ট্রাক নোমান্সল্যান্ডের মুখে তল্লাশীর নামে কালক্ষেপণ এবং যাত্রী পারাপারের জন্য বিজিবি’র সিগনালের অপেক্ষার কারনে গাড়ীগুলোকে প্রবেশ করতে বেশ খানিকটা সময় লাগছে।
এ প্রসংগে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, প্রতিদিন বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় ৩৫০ টি পন্যবাহী ট্রাক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যাত্রী পারাপারের জন্য নোম্যান্সল্যান্ড খালি রাখার অজুহাতে বিজিবি ও বিএস এফ অহেতুক ঝামেলা করছে। তারা যেটা করছে সেটা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
গত ১৪ মে ইন্দোবাংলা চেম্বার অব কর্মাসের পক্ষ থেকে ল্যান্ডপোর্ট অথরিটির ভারতীয় কতৃর্পক্ষ কে বিষয়টি জানানো হলে পশ্চিমবাংলা সি ডব্লিউ সি এস এর সেন্ট্রাল চেয়ারম্যান গত ঐ দিনই ২ মিনিটের মধ্যে সকল গাড়ীগুলোকে বাংলাদেশে ঢোকার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিএসএফ কে নির্দেশ দিলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। বরং বিএসএফ কাস্টমস এন্ট্রি চৌকির ৫ গজ দুরে টেবিল চেয়ার পেতে পন্যবাহী ট্রাকের এন্ট্রি করতে বসে গেছে। বিএসএফ কতৃর্ক নতুন করে পন্যবাহী ট্রাকের এন্ট্রিতে বসায় কষোভ প্রকাশ করেছেন দু,পাশের ব্যবসায়ি সংগঠন গুলো। গত ৮ জুন ভারতীয় হাই কমিশনার রিভা দাস গাঙুলী বেনাপোল বন্দর পরিদর্শনে এলে বেনাপোল কাস্টমস ,বন্দর, ও বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন ব্যবসায়ি সংগঠনগুলো এ ব্যাপারে তাঁর হস্তক্ষেপ কামনা করেন, উভয় দেশের বন্দরের সার্বিক সমস্যা তুলে ধরেন।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: