,


বেনাপোলের তেরঘর সুখে দুখে একে অন্যের
বেনাপোলের তেরঘর সুখে দুখে একে অন্যের

বেনাপোলের তেরঘর সুখে দুখে একে অন্যের

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ যশোরের বেনাপোল সীমান্তের গাতিপাড়া গ্রামের পেটের মধ্যে ইউ আকৃতিতে গড়ে ওঠা ভারতীয় একটি গ্রামের নাম তেরঘর।কথিত আছে প্রায় সাড়ে তের বিঘা জায়গার ওপর তেরটি ঘর নিয়ে বাংলাদেশের বুক চিরে গড়ে ওঠে ভারতীয় তেরঘর নামক গ্রামটি ।বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে সোজা তিন কিলোমিটার দক্ষিণে গাতিপাড়া গ্রামের পেটের মধ্যে এই তেরঘরের অবস্থান।তেরঘরের পশ্চিম এলাকা ছাড়া আর সব গুলো অংশ বাংলাদেশের । পশ্চিম অংশের যৌথ ইছামতী নদী পার হয়ে তের ঘরের অধিবাসিদের নৌকা অথবা ডোঙ্গায় চড়ে ভারতের মুল ভুখন্ডে পা রাখতে হয়।
তেরটি ঘর নিয়ে গ্রামটি গড়ে উঠলেও জীবন জীবিকার টানা পড়নে এখন সেখানে বাস করে নয়টি পরিবারের সতের টি ঘর । ঘর গুলি মাটির এবং টিনের বেড়া দিয়ে তৈরী । সিটমহলের চেহারার মত এখানকার মানুষের চেহারা জীর্নশীর্ন । আগে তেরঘরের মানুষের সাথে গাতিপাড়া গ্রামের সাধারন মানুষের যোগাযোগ থাকলেও বাঁশের তৈরী বেড়া আটকে দিয়েছে দু’দেশের মানুষের বন্ধুত্ব। তবে তেরঘর বাসিদের বড় ধরনের কোন বিপদ হলে সবার আগে বাংলাদেশি প্রতিবেশিরা এগিয়ে যায়।ছোট খাটো কেনা কাটার জন্য বাশেঁর বেড়া তাদের আটকে রাখতে পারেনা। সময় পেলেই তেরঘরের বাসিন্দারা বাংলাদেশের গাতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে খোশ গল্প করে সমায় কাটায়। অনেকে তাই তাদের কে তের ঘরের বাসিন্দা না বলে সুখি গ্রামের বাসিন্দা বলে থাকে।
তেরঘরের বাঁশের বেড়ার গাঁ ঘেষে কথা হচ্ছিল তেরঘরের মেম্বর বিদ্ব্যাসী হালদার এর সাথে তিনি বলেন, এখানে তারা মোট নয়টি পরিবার বসবাস করেন। নয় পরিবারের মোট ১৭টি ঘর রয়েছে। এখান কার জনসংখ্যা ৮৭ জন।এদের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ,২৭ জন নারী ও ৩৫ জনশিশু রয়েছে।এখানে সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস। ইছামতি নদীতে মাছ শিকার করা তাদের পেশা।
এক সময় এখানে ১৩টি পরিবার ১৩টি ঘরে বাস করত। সেই থেকে এর নাম তেরঘর। এখন আর ১৩ পরিবার বাস করে না। কিন্তু নামটি আগের মতই তেরঘর রয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, তেরঘরের ১৯ শিশু প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে আর ৭জন ঊচ্চমাধ্যমিক পড়ছে। এখানে কোন স্কুল না থাকায় তারা ভারতের বনগাঁ ও কল্যাণী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে।
তেরঘরের আরেক বাসিন্দা কানাই দাশ বলেন, তাদের বাজারসদাই, লেখাপড়া, চিকিৎসাসহ যাবতীয় প্রয়োজনে নদী পার হয়ে ভারতে যেতে হয়। চৈত্র মাসে যখন নদী শুকায়ও না আবার হাঁটুজলে নৌকা চলে না তখন সমস্যার শেষ থাকে না। চার-পাঁচ কিলোমিটার কাঁদাজল পাড়ি দিয়ে ভারতের পেট্রাপোল কিংবা কালিয়াণী বাজারে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন এত কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যেতে চায় না। তেরঘরা ভারতের বনগাঁ থানার ছয়ঘরিয়া পঞ্চায়েতের আওতায় পড়েছে বলে তিনি জানান।তিনি আরো বলেন, তেরঘরের ভেতরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের একটি ক্যাম্প ছিল। বছর চারেক আগে সেটা উঠে গেছে। কি কারনে ক্যাম্পটি উঠে গেছে সেটা তিনি জানেন না।
বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকেই তারা তেরঘরায় বাস করছে । তারা ভারতীয় হলেও তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় আচার-আচরণ সব বাংলাদেশিদের মত। তাদের বিপদে-আপদে প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশিরাই এগিয়ে যায়। সেখানে নেই কোনো ডাক্তার। বেশি প্রয়োজন হলে বাংলাদেশি ডাক্তাররাই এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের সমতল ভূমি গাতিপাড়া গ্রামের মাটির সঙ্গে মিশে আছে তেরঘর। এর সামনে ইছামতি নদী। নদীর ওপারে মেহেন্দীর টেক নামে একটি টিলা আছে। ওই টিলায় ১২ বিঘা জমি আছে যার মালিক বাংলাদেশের গাতিপাড়ার তিন ভাই পাঞ্জাব আলী, জামছের আলী ও ছামেদ আলী। অথচ ওই টিলায় বসবাস করে চারটি ভারতীয় পরিবার। মেহেন্দীর টেকের সঙ্গে তেরঘরা বিনিময় করলে এরাও যেমন ভারতের নাগরিকের সুযোগ-সুবিধা পাবে তেমনি বাংলাদেশ সীমান্তে অপরাধ কমে আসবে বলে মনে করেন সচেতন এলাকাবাসিরা।

খুলনা ২১ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ সোহেল আহম্মেদ জানান, তেরঘরা অরক্ষিত বলে বাংলাদেশ থেকে দুটি তল্ল¬াশি চৌকি দেওয়া হয়েছে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: