,


হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ, পলেস্তারা খসে আহত ৯
হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ, পলেস্তারা খসে আহত ৯

হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ, পলেস্তারা খসে আহত ৯

ডেস্ক রিপোর্টার : নোয়াখালী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের পুরোনো ভবনের শিশু ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে অসুস্থ পাঁচ শিশু, তাদের স্বজনসহ নয়জন আহত হয়েছে। আজ বুধবার সকাল পৌনে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো ওয়ার্ডের অসুস্থ শিশু রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

২০১৫ সালে গণপূর্ত বিভাগ ওই ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পরও রোগীর চাপ সামলাতে ওই ভবনে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা হয়েছিল। বছরখানেক আগেও একই ভবনের পার্শ্ববর্তী আরেকটি ওয়ার্ডে পলেস্তারা খসে পড়ে কর্তব্যরত নার্সসহ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় ওই ভবনে আরও বেশ কয়েকবার পলেস্তারা খসে পড়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস। এ সময় তিনি দুপুর ১২টার মধ্যে পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলার চারটি ওয়ার্ড খালি করে দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। ১২টার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ওয়ার্ডগুলো সিলগালা করে দেওয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

আহত রোগী ও তাদের স্বজনেরা হলেন সুমাইয়া (১২), ইসমাইল (৫), ইমাম উদ্দিন (৫ মাস), রাসেল (১৬ মাস), বাদশা (৩৫), রাফি (আড়াই বছর), পারুল বেগম (৪৭), রোজিনা আক্তার (২০) ও মো. ইব্রাহিম (৫০)। ঘটনার পর ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স ও রোগীদের অন্য স্বজনেরা মিলে তাদের উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং পরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স নিলুপা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, সকাল পৌনে সাতটার দিকে তিনি একা ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন। হঠাৎ বিকল শব্দে তাঁর সামনেই ছাদ থেকে বিশাল খণ্ডের পলেস্তারা খসে টুকরো টুকরো হয়ে রোগীদের ওপর পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ওয়ার্ডে থাকা অর্ধশতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনেরা দিগ্‌বিদিক ছুটোছুটি শুরু করে। তখন আহত রোগী ও স্বজনদেরও উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি।

শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ইয়াছিন আরাফাতের বাবা মো. বাদশা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি বাইরে থেকে কলা কিনে এনে অসুস্থ ছেলেকে কোলে নিয়ে খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় সময় তাঁর ডান হাত ও মাথার পাশ দিয়ে আট-দশ কেজি ওজনের একটি পলেস্তারা খসে পড়ে। তাঁর হাতে পড়ার কারণে ছেলের মাথায় লাগেনি, না হলে ছেলের মাথা ফেটে যেতে পারত।

বাদশা জানান, তিনি চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছেন। চিকিৎসক এলে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ছেলেকে নিয়ে চলে যাবেন। এখানে আর এক মুহূর্তও থাকার ইচ্ছা তার নেই। বাদশা বলেন, ‘আমার অসুস্থ বাচ্চাকে এখানে সুস্থ করতে এনেছিলাম; চোখের সামনে মারার জন্য নয়।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. খলিল উল্যাহ বলেন, ২০১৫ সালে ওই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিল গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাঁরা চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে আজ সকাল পৌনে সাতটার দিকে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রোগী, স্বজনসহ নয়জন আহত হয়। আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: