,


ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে বন্যপ্রাণি নিয়ে গবেষণা করছেন বিদেশিরা
ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে বন্যপ্রাণি নিয়ে গবেষণা করছেন বিদেশিরা

ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে বন্যপ্রাণি নিয়ে গবেষণা করছেন বিদেশিরা

ডেস্ক রিপোর্টারঃ কোনো ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে দেশের বন্যপ্রাণী নিয়ে গবেষণা করছেন বিদেশিরা। আছে তথ্য ও নমুনা পাচারের অভিযোগও। এ ধরনের ঘটনাকে দেশের জন্যও হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের কতিপয় অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় বন বিভাগের নাকের ডগায় নিয়মিত এমন অপরাধ চললেও প্রতিরোধে নেই কোনো তৎপরতা। বরং, দোষীদের রক্ষার অভিযোগ আছে বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া উদ্যান। এ সুযোগে সেখানে ঘুরে বেড়িয়েছেন পর্যটক হিসেবে ঘুরতে আসা দুই মার্কিন গবেষক স্কট ট্রাগেসার ও এলেক্স উইলস। করেছেন বনরুইয়ের নমুনা সংগ্রহ। ঈদের পরই সেই নমুনা নিয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে যান তারা। চেষ্টা করেন জিন সংগ্রহের।

ল্যাব সহকারী আকাশ বলেন, দুইজন এসেছেন। একজনের নাম অ্যালেক্স। অপর জন হলেন গবেষক স্কট ট্রাগেসার।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত এলাকায়ও নিয়মিত যাতায়াত করছেন তারা। সেই প্রমাণ লোপাটে মুছে দেয়া হয়েছে সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও।

অভিযোগ আছে, এ সব কাজে তাদের সহযোগী দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা বেসরকারি একটি সংগঠনের কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান সিজার। তবে সিজারের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়টির হয়ে কাজ করছেন তারা।

ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের দাবি, সংগঠনের অগোচরে এসব করছে সিজার।

ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স প্রতিষ্ঠাতা আসিফ ইবনে ইউসুফ বলেন, সিজার গত তিন মাসে সিসিএ-এর নাম ব্যবহার করে যে কাজগুলো করছে এইগুলো নিজের উদ্যোগে করছে।

এদিকে, বন বিভাগের অনুমতি না থাকলেও সংরক্ষিত এলাকায় বিদেশিদের সঙ্গে একটি ছবিতে দেখা গেছে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এস এম জহির উদ্দিন আকন।

তিনি বলেন, আমি অ্যালেক্সের সঙ্গে আমি যায়নি। আমি যখন গিয়েছিলাম তখন সিজার সেখানে ছিল। কিন্তু, এটা নিয়ে আপনাদের (সময় সংবাদের প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে) সমস্যাটা কি?

সময় সংবাদের অনুসন্ধানের খবর পেয়ে দোষীদের রক্ষায় গত ২৬ জুন তড়িঘড়ি করে শাহরিয়ারকে অনুমতি দেয় বন বিভাগ। কিন্তু এ অনুমোদন নিয়মবহির্ভূত বলে দাবি করেন বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী গবেষণা কমিটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ।

তিনি বলেন, বন্য প্রাণী সংরক্ষক কমিটি যদি সিদ্ধান্ত দেয় তাহলে আমাদের প্রধান বন সংরক্ষক অনুমোদন দিতে পারে। এছাড়াও অন্য কেউ দিতে পারবে না।

ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও, প্রভাবশালীর চাপে তাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন অধিদপ্তরের বন সংরক্ষক (অর্থ ও প্রশাসন) জাহিদুল কবির।

তিনি বলেন, আমরা অনুমতি দিয়েছি গত তিন চারদিন আগে। কিন্তু কি জন্য দিয়েছি? সাবের হোসেন চৌধুরী আমাদের সরাসরি সুপারিশ করেছেন যে এই অনুমতি দিতে হবে।

২০১৭ সালের জীব-বৈচিত্র্য আইন অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া বহিরাগতদের সংরক্ষিত বনে প্রবেশ দণ্ডনীয় অপরাধ।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

সর্বশেষ

%d bloggers like this: