,


বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়? সাকিব কেন নয়!
বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়? সাকিব কেন নয়!

বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়? সাকিব কেন নয়!

ডেস্ক রিপোর্টারঃ আইসিসি ইনস্টাগ্রামে ছয় তারকার ছবি দিয়ে জানতে চেয়েছে: প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট হবেন—
১. সাকিব আল হাসান
২. কেন উইলিয়ামসন
৩. বাবর আজম
৪. রোহিত শর্মা
৫. মিচেল স্টার্ক
৬. জোফরা আর্চার

শূন্যস্থানে কার নাম বসবে, সেটি পরে। তবে সাকিবের নামটা শুরুতেই দেখে ভালো লাগার কথা বাংলাদেশের দর্শকদের। যদি সত্যি তাঁর হাতে টুর্নামেন্ট-সেরার পুরস্কার ওঠে, সেই ভালো লাগাটা বেড়ে যাবে আরও অনেক গুণ। প্রতিদ্বন্দ্বীরা কে কেমন করছেন, সেটি জানতে ইউরোপে ছুটি কাটানোর ফাঁকে সাকিব নিজেও নিশ্চয় চোখ রাখছেন। যদিও তিনি কখনোই নিজের মুখে এ প্রসঙ্গে কিছু বলেননি। তবে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ বলছিলেন, ‘আমার মনে হয় ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ও ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হতে চায়। কয়েক মাস ধরে সাকিব সেভাবেই নিজেকে তৈরি করেছে।’

সাকিবের ভালো করার ক্ষুধাটা যে কতটা তীব্র, সেটি পুরো বিশ্বকাপেই দেখা গেছে। এক টুর্নামেন্টে শচীন টেন্ডুলকারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। তবে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ফিফটি পেরোনো ইনিংস খেলে টেন্ডুলকারের পাশে নাম লিখিয়েছেন। সাকিব যেভাবে ছুটছিলেন, কত কিংবদন্তির কথা বারবার ঘুরেফিরে এসেছে—এই বুঝি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার তাঁদের রেকর্ড ভেঙে দেন!

গত ৬ জুলাই হোটেল রয়্যাল ল্যাঙ্কাস্টার লন্ডনে সাকিব বলছিলেন, নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি খুশি। তাঁর একটাই আক্ষেপ, দল সেমিফাইনালে খেলতে পারেনি। বাংলাদেশ শেষ চারে গেলে শুধু বড় লক্ষ্যই পূরণ হতো না। সাকিবের আরও কিছু কীর্তিও হয়তো দেখা যেত। তাঁর রানটা আরও বাড়তে পারত। হয়তো বাড়ত উইকেটসংখ্যাও। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান হতো আরও উজ্জ্বল। করতে পারতেন আরও অনেক অনেক রেকর্ড। সাকিব অবশ্য বলছিলেন তিনি রেকর্ডের জন্য খেলেন না, ‘এসব নিয়ে কখনো চিন্তা করিনি। যে সুযোগ এসেছে আমার কাছে সেটা যথেষ্ট ছিল। ওসব নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তা করিনি। রেকর্ডের কথা ভেবে খেলার মানুষ আমি নই।’

সাকিব রেকর্ডের জন্য না খেলুন, ৮ ম্যাচে তিনি যেভাবে খেলেছেন, বাংলাদেশ অলরাউন্ডারের হাতে কি উঠতে পারে না টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার? প্রশ্নটা উচ্চকিত হচ্ছে সেমিফাইনালে তাঁর বড় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রোহিত শর্মা আর মিচেল স্টার্কের পারফরম্যান্সে। টুর্নামেন্টে রেকর্ড ৫ সেঞ্চুরি করা রোহিত সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেছেন ১ রান। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির জায়গা আগেই নিশ্চিত করা স্টার্ক শেষ চারে ১ উইকেটের বেশি নিতে পারেননি। রোহিত খেলেছেন ৯ ম্যাচ আর স্টার্ক ১০টি। সেখানে ৮ ম্যাচে ৮৬.৫৭ গড়ে ২ সেঞ্চুরি ৫ ফিফটিতে সাকিবের রান ৬০৬। বাঁ হাতি স্পিনে নিয়েছেন ১১ উইকেট।

গত বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট-সেরার পুরস্কার উঠেছিল স্টার্কের হাতে। ২২ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলেন। এবার তো আরও বেশি উইকেট পেয়েছেন—২৭টি। টুর্নামেন্ট-সেরা তিনি হতেই পারেন। তাহলে রোহিত শর্মার ‘অপরাধ’ কী? যেভাবে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন, একটার পর একটা সেঞ্চুরি করেছেন—ভারতীয় ওপেনার যেন জোরালো দাবি জানিয়ে রেখেছেন, প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট তাঁকে দিতে হবে! বোলিং কিংবা ব্যাটিং—কোনো নির্দিষ্ট বিভাগে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে পিছিয়ে রাখার উপায় নেই জোফরা আর্চার, বাবর আজম কিংবা কেন উইলিয়ামসনকেও।

উইলিয়মাসন শুধু ৯ ম্যাচে ৫৪৮ রান করে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেননি, তাঁর ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিষ্ক ভীষণ প্রশংসিত হয়েছে। রোহিত-স্টার্ক ভীষণ আলোচিত হলেও নিভৃতে টুর্নামেন্ট-সেরা হওয়ার দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে আছেন কিউই অধিনায়কও।

টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার নির্ধারণে নিশ্চিত এবার বিচারকদের কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে। এ ‘কঠিন পরীক্ষায়’ উত্তীর্ণ হতে তাঁরা যদি ২০১১ কিংবা ১৯৯৯ বিশ্বকাপের পথে হাঁটেন তাহলে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বড় সুখবরই অপেক্ষা করছে। যেহেতু ব্যাটিং কিংবা বোলিং—দুই বিভাগেই দুর্দান্ত সব পারফরমারদের দেখা গেছে এই বিশ্বকাপে। ব্যাটিংয়ে রোহিত, ডেভিড ওয়ার্নার, জো রুট, উইলিয়ামসন—কাকে রেখে কাকে বেছে নেবেন? বোলিংয়ে স্টার্ক, আর্চার এমনকি বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানও তো উইকেট শিকারে দুর্দান্ত। যদি দেখা হয় কার পারফরম্যান্স দুই বিভাগেই ধারাবাহিক উজ্জ্বল, কে দলের জয়ে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, কে ভীষণ প্রভাববিস্তারী খেলোয়াড়—এসব ‘শর্তে’ সাকিবের চেয়ে এগিয়ে কে? রোহিত-ওয়ার্নার-উইলিয়ামসন কিংবা রুট কি বোলিংয়ে দারুণ কিছু করেছেন? কিংবা স্টার্ক-আর্চার দ্যুতি ছড়িয়েছেন ব্যাটিংয়েও?

ভারতের কাছে হারের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ যে তিনটি ম্যাচ জিতে শেষ চারের দৌড়ে ভালোভাবেই ছিল, প্রতিটিতেই সাকিব নায়ক। একটা দলকে অনেকটা এক কাঁধে টেনেছেন প্রায় পুরোটা টুর্নামেন্ট। এত ধারাবাহিক অলরাউন্ড নৈপুণ্যের উদাহরণ খুব কমই আছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে। বিরল বলেই ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ল্যান্স ক্লুজনার কিংবা ২০১১ বিশ্বকাপে যুবরাজ সিংয়ের হাতে টুর্নামেন্ট-সেরার পুরস্কার তুলে দিতে খুব একটা ভাবতে হয়নি আয়োজকদের। সেটিই যদি হয়, লর্ডসে কাল প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কার ঘোষণায় সাকিবের নাম উচ্চারিত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বিচারকেরা যদি এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, বিবেচনার সময় সাকিবের নামটি একাধিকবার উচ্চারিত হয়েছে সন্দেহ নেই। কিন্তু কালকের ফাইনাল দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রসঙ্গটি যদি আসে, সে ক্ষেত্রে সাকিবের কপাল পুড়তেও পারে।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: