,


বগুড়ার (Bogra)

গাবতলীতে বিচারাধীন মসজিদের ওয়াকফ জমি দখলের পাঁয়তারা

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার গাবতলীতে আদালতে বিচারাধীন মসজিদের নামে ওয়াকফ করা জমি দখলের পাঁয়তারা ও জোরপুর্বক তাজা বটগাছ কেটে নেয়ায় থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। মসজিদের ওয়াকফকৃত জমিতে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র করার নামে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রতিকার চেয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মোতোয়াল্লি।
ওয়াকফ স্ট্রেট জুম্মা মসজিদের মোতোয়াল্লি রফিকুল ইসলাম রানা জানান, বগুড়ার গাবতলী নেপালতলীতে সি.এস খতিয়ান ২৮১, এম আর আর নং খতিয়ান নং ৭৩, দাগ নং ২৬, ধানী ৪৯ শতক জমির মধ্য ২৪ শতক জমি সারিয়াকান্দি জুম্মা মসজিদের নামে ওয়াকফ করা। আমি এর মোতোয়াল্লি হিসাবে দেখভাল করছি। এই জমি সুকৌশলে দখল করার জন্য গাবতলী নেপালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি গোপনে ত্রাণ মন্ত্রনালয়ে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র করার প্রস্তাব পাঠায়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে হৈ চৈ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই জমি নিয়ে আদালতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আপিলেন্ট একটি মামলা চলমান আছে। রফিকুল ইসলাম রানা আরো বলেন, নেপালতলী এলাকার একটি স্বার্থন্বেষী মহল তাদের কিছু লাভের জন্য জুম্মা মসজিদের নামে ওয়াকফ জমি আত্মসাতের পাঁয়তারা করছে। ওয়াকফকৃত জমিতে একটি বিরাট তাজা বটগাছ স্কুলের সভাপতি প্রধান শিক্ষক কৌশলে কেটে নিয়েছে। বটগাছ কাটায় থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। গাবতলী মডেল থানার এস আই জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাছ কাটা বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে ১৯ জুলাই শুক্রবার থানায় বটগাছ কাটা সংক্রান্ত শালিশ বৈঠক ডেকেছেন। মসজিদের ওয়াকফ এই জমিতে যাতে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র না হয় সেজন্য, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, ডিজি, জেলা প্রশাসক বগুড়া, এমপি সারিয়াকান্দি, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রাজশাহী, গাবতলী নির্বাহি অফিসার, এ্যাসিল্যান্ট, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ইউএনও আব্দুল ওয়ারেছ আনসারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র হোক সবাই চায়। জমি নিস্কন্টক হলে ভালো হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) সালমা আক্তারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, জুম্মা মসজিদের মোতোয়াল্লি স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সারিয়াকান্দি জুম্মা মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত জায়গায় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র না হয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র বা যে কোন সরকারী স্থাপনা স্ব স্ব মন্ত্রনালয়ের অধীন। বিতর্কিত বা আদালতে বিচারাধীন ও অভিযোগ থাকে এমন জায়গায় কোন স্থাপনা না হওয়ায় ভালো। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রায় ১৯ শতাংশ জায়গার উপর ১৫২ ফিট দৈর্ঘ্য ও ৫২ ফিট প্রস্থ ৩ তলা বিশিষ্ট নেপালতলীতে একটি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের টেন্ডার হয়েছে। এতে ব্যয় হবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। নেপালতলী স্কুল কর্র্র্তৃপক্ষ যে জমি দিতে রাজি হয়েছেন, সে জমি সারিয়াকান্দি জুম্মা মসজিদের নামে নাকি ওয়াকফ করা দাবি করে মোতোয়াল্লি রফিকুল ইসলাম রানা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযোগ থাকা জমিতে কোন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র হওয়ার সুযোগ নেই। স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই জমিতে কোন অভিযোগ নেই মর্মে কাগজপত্র দিয়েছেন। নেপালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আতাউর রহমান রাঙ্গা ও প্রধান শিক্ষক কাজী আনোয়ারুল ইসলাম টিটুর সাথে কথা বললে তারা জানান, জমি আব্দুল হামিদ নামের একজন দাতা স্কুলে দান করেছেন, সেখানে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র’র জন্য প্রস্তাব পাঠানোর পর টেন্ডার হয়েছে। জমি নিয়ে কোন মামলা মোকর্দ্দমা নেই বলেও তিনি দাবী করেন।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

সর্বশেষ

%d bloggers like this: