,


রাজশাহী মৎস্য ভবনে চলছে পুকুর চুরি
রাজশাহী মৎস্য ভবনে চলছে পুকুর চুরি

রাজশাহী মৎস্য ভবনে চলছে পুকুর চুরি

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী মৎস্য ভবনের উপরতলা থেকে নিচতলা, মৎস্য খামার পর্যন্ত দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী আর স্থানীয় মাস্তানদের যোগসাজসে উৎসব মূখর পরিবেশে চলছে চুরি, অনিয়ম আর দূর্নীতি, এ যেন দিনে দুপুরে পুকুর চুরির সামিল।

সরেজমিনে রাজশাহী নগরীর বর্ণালি মোড়ের বিভাগীয় মৎস্য ভবন ক্যাম্পাসের ভেতর মৎস্য খামারে গিয়ে দেখা যায় তারা রবিবার গভীর রাতে মৎস্য চাষীদের কার কোন মাছের পোনা কতটুকু লাগবে সেটা একটা সাদা কাগজে লিখে টোকেন দিয়ে টাকা জমা নিচ্ছেন, পরদিন ভোররাতে অর্থাৎ ফজরের নামাজের সময় থেকে সকাল ৭ টা পর্যন্ত মাছ বিতরণ করছেন। ছয়জন মৎস্য চাষীর সাথে কথা বলে জানা গেল এরা তাদেরকে কোন রশিদ দেয় না, বাটা মাছের রেণু পোনা প্রতি কেজি ৪০০০ টাকা, রুই-কাতলা-মৃগেল মাছের প্রতি কেজি ৩০০ টাকা যেখানে সরকারী হিসেবে সবধরনের মাছ ১৬০০ নেবার কথা। বড় ধরনের ঝামেলা এড়াতে বসিয়ে রাখা হয়েছে কিছু লোকাল মাস্তান। তালা বন্ধ চিংড়ি হ্যাচারীর উল্টোদিকের গলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ফেন্সিডিলের বোতল। জানা যায়, সব টাকাই ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে ভবনের সবচেয়ে বড় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে খামারের পাম্প ম্যানেজার আফজাল হোসেন পর্যন্ত আর কিছুটা লোকাল মাস্তানদের মাঝে।

এদিকে, মুল ভবনে একটি তিন রুমের এসি গেষ্ট হাউজ আছে যেখানে বাসা ভাড়া না নিয়ে বিনা পয়সায় মাসের পর মাস থাকছেন বিভাগের বড় দুই কর্মকর্তা, তারা হলেন ডিডি মো: হাসান ফেরদৌস সরকার ও ইউনিয়ন প্রকল্পের ডিপিডি আবুল কালাম আজাদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খামার ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, অনেক ভীড় থাকার কারণে রশিদ দেয়া সম্ভব হয় না, তবে কেউ চাইলে তাকে দেয়া হয়। দামের ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভুল করে দু’একজনের কাছে বেশী নেয়া হতে পারে। অনেক ভীড় মানে অনেক বিক্রিও হয় নিশ্চয় ? আজকে কত কেজি বিক্রি করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন ৭ কেজি বিক্রি হয়েছে।

রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা বলেন, আমার কাছে লিখিত অভিযোগ আসলেই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

রাজশাহী বিভাগের ডিডি হাসান ফেরদৌস সরকার এ প্রতিবেদককে জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানালেও এক সপ্তাহ পরেও চলছে একই অবস্থা।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানালেন আরো ভয়ঙ্কর তথ্য, তিনি বলেন চুরিদারির সব টাকা রাজশাহীতে অবস্থানরত সর্বোচ্চ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে খামারের সব কর্মচারীরাও ভাগ পায়। গলদা চিংড়ির হ্যাচারীর কথা বলে সরকারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ডিডি, ডিপিডি, ডিএফও ও খামার ব্যবস্থাপক নাটক সাজিয়ে ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে সমস্ত টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অথচ চিংড়ি হ্যাচারীতে ঝুলছে তালা।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

সর্বশেষ

%d bloggers like this: