,


গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে অনুমতি ছাড়াই চলছে এমা ক্লিনিক

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে অনুমতি ছাড়াই চলছে এমা ক্লিনিক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ‘এমা ক্লিনিক’ নামে একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমতি ছাড়াই নিয়ম বহির্ভূত ভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার রামদিয়া বাজারে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার রামদিয়া বাজারে ‘এমা ক্লিনিক’ নামে একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমতি ছাড়াই অবৈধ ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। যার নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। এছাড়া ক্লিনিকের রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে সব শর্তাবলী থাকার কথা সে গুলোর কিছুই নেই ক্লিনিকটিতে। নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার, অভিজ্ঞ নার্স, অপারেশন থিয়েটার ও ওষুধপত্র। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রাইভেট প্রাকটিস এন্ড মেডিকেল এ্যাক্ট ১৯৯২ অনুযায়ী ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ও নির্ধারিত স্থান, জীবাণুমুক্ত কক্ষ বিশিষ্ট ভবন, অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও চিকিৎসার সরঞ্জামাদি ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে ডাক্তার, আবাসিক ডাক্তার, সার্জন, স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা) থাকতে হবে, প্রতি দশ বেডের জন্য তিন জন ডাক্তার, একজন করে তিন শিফটে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি দশ বেডের জন্য ছয় জন স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা) তিন শিফটের জন্য দুইজন করে সার্বক্ষণিক ডিউটি পালন করবেন। কেবল এসব শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে বেসরকারি ভাবে কোন ক্লিনিক রেজিষ্ট্রেশন দেয়ার কথা। অথচ এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিমালা অনুযায়ী নজরদারি নেই বললেই চলে। এভাবে চিকিৎসা সেবার নামে চলছে রমরমা ব্যবসা। এতে একদিকে অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্লিনিক মালিকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে অন্যদিকে রোগীদের আর্থিক ক্ষতিসহ রোগী মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা মো: কাইয়ুম তালুকদার বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে সুপারিশ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স গ্রহণপূর্বক কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা প্রাইভেট ক্লিনিক স্থাপন করা যাবে। এ ছাড়া কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা প্রাইভেট ক্লিনিক স্থাপন করে অবৈধ ভাবে কোনো রোগীকে চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজ করা যাবে না। যদি কোনো ব্যক্তি এসব অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা প্রাইভেট ক্লিনিক স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করে তার বিরুদ্ধে জেলা সিভিল সার্জন বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
ক্লিনিকের শেয়ার পার্টনার মো: আমিরুজ্জামান মিয়া বলেন, অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন পেয়েছি। কাগজপত্র ছাড়া কি অপারেশন করা যায়।
গোপালগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ তরুণ মন্ডল বলেছেন, এমা ক্লিনিক মালিক পক্ষ একটি আবেদন করেছে। তারা এখন পযর্ন্ত শর্ত পূরণ করতে পারেনি তাই তাদের কোন অনুমতি বা লাইন্সেস দেওয়া হয়নি। আমরা অনুমোদন বিহীন ক্লিনিক মালিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: