,


এফডিসিতে প্রযোজকদের ভোটে নায়ক–নায়িকারাও শামিল
এফডিসিতে প্রযোজকদের ভোটে নায়ক–নায়িকারাও শামিল

এফডিসিতে প্রযোজকদের ভোটে নায়ক–নায়িকারাও শামিল

ডেস্ক রিপোর্টারঃ আট বছর পর প্রযোজক সমিতির নির্বাচন। তাই আজ শনিবার সত্যিকার অর্থে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণ। এখানে হয়ে গেল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০১৯-২১ মেয়াদি নির্বাচন। এফডিসির ভেতরে জহির রায়হান প্রজেকশন মিলনায়তনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন। এরপর সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ফল ঘোষণা করা হয়। প্রযোজকদের এ ভোটে অভিনেতা–অভেনেত্রী থেকে প্রযোজক হয়ে ওঠা শিল্পীরাও এসেছিলেন। আবার প্রযোজক নন, এমন অনেক শিল্পীই এসেছিলেন শুধু ভোট দেখতে। তাই প্রযোজকদের ভোটে তারাদেরও মেলা বসেছিল আজ।

এবার ১৪০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১৩০ জন। তাঁদের দেওয়া ভোটে সাধারণ সদস্য হিসেবে ১২১ ভোট পেয়ে খোরশেদ আলম, ১১৭ ভোট পেয়ে সামসুল আলম, ১১৩ ভোট পেয়ে ইস্পাহানী, ১১০ ভোট পেয়ে কামাল মোহাম্মাদ, ১০৬ ভোট পেয়ে মেহেদী হাসান সিদ্দিকী, ১০৩ ভোট পেয়ে মোর্শেদ খান, ১০০ ভোট পেয়ে রশীদুল আমিন, ৯৮ ভোট পেয়ে জাহিদ হোসেন, ৯৬ ভোট পেয়ে এ জে রানা, ৯৫ ভোট পেয়ে মোহাম্মদ হোসেন, ৮৬ ভোট পেয়ে চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি, ৮১ ভোট পেয়ে কামাল লিপু, ৮০ ভোট পেয়ে অপূর্ব রানা, ৭৯ ভোট পেয়ে নাদির খান, ৭৬ ভোট পেয়ে শহিদুল আলম, ৭৩ ভোট পেয়ে ইলা জাহান, ৭২ ভোট পেয়ে ইকবাল হোসেন, ৭০ ভোট পেয়ে ড্যানি সিডাক এবং ৬৫ ভোট পেয়ে আলিমুল্লাহ খোকন প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই ১৯ জনের মধ্যে ১০ জনকে আবার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করে এবারের মূল কমিটি গঠন করা হবে।

এবারের নির্বাচনে কোনো প্যানেল ছিল না। যে যাঁর মতো করে নির্বাচনে অংশ নেয়েছেন।

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলে। নির্বাচনে ১৯ জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছিলেন ৪১ জন। ১৪০ ভোটের মধ্যে ভোট পড়ে ১৩৫টি। অন্যদিকে ২ জন সহযোগী সদস্যের বিপরীতে ৯ জন প্রার্থী হয়েছিলেন। এর মধ্যে সহযোগী সদস্য হিসেবে ২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন আজিজ আহমেদ এবং ১৮ ভোট পেয়ে আসিকুর রহমান বিজয়ী হন।
আট বছর পর এই নির্বাচন হওয়াতে দিনব্যাপী চলচ্চিত্র জগতের মানুষের মধ্যে উৎসাহ–উদ্দীপনাটা ছিল। পুরো এফডিসি জুড়ে একটা সাজ সাজ রব দেখা গেছে। পাশাপাশি মূল ফটক থেকে শুরু করে ভেতরের সর্বত্র পুলিশ ও র‍্যাবের জোরদার নিরাপত্তা ছিল।

এদিকে, প্রযোজক পরিবশেকদের ভোট হলেও এই নির্বাচনে ভোট দিতে ও নির্বাচন দেখতে চলচ্চিত্র পরিচালক ও চলচ্চিত্র তারকা শিল্পীরাও হাজির হয়েছিলেন এদিন। কোনো কোনো তারকা শিল্পী প্রযোজক হওয়াতে, নির্বাচনে ভোট ভোট দিতে এসেছিলেন তাঁরা। খলনায়ক ড্যানি সিডাক, চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববিসহ দুয়েকজন ভোটে প্রার্থীও হয়েছিলেন। ভোটের দুপুরে এফডিসির প্রশাসনিক ভবনের সামনে তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন ববি। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাত বছর পরে নির্বাচন হচ্ছে, এটি খুবই আনন্দের। কারণ, চলচ্চিত্রের সমস্যার একটা অংশ এই নির্বাচন হওয়াতেই সমাধান হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রথম অভিজ্ঞতা। আমি একেবারেই নবীন। প্রবীণদের সঙ্গে থেকে শিখতে চাই, কাজ করতে চাই।’

আবার তারকাশিল্পীদের মধ্যে প্রযোজক হিসেবে ভোট দিতে এসেছিলেন নায়ক আলমগীর, অঞ্জনা, শাকিব খান, জয়া আহসান, ওমর সানী, অমিত হাসান, নিরবসহ বেশ কয়েকজন তারকা। ভোট দিয়ে বের হয়ে শাকিব খান বলেন, প্রযোজক বাঁচলে চলচ্চিত্র বাঁচবে। আজ আনন্দের দিন। বেশ উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ হচ্ছে, বেশ ভালো লাগছে। আজ আনন্দের দিন। চলচ্চিত্রের মাদার অর্গানাইজেশন হলো প্রযোজক সমিতি। চলচ্চিত্রের অনেক সমস্য যাচ্ছে। সমিতি গঠিত হলে সব সমস্যর সমাধান হয়ে যাবে।

সন্ধ্যায় ফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া খসরু জানান, চলচ্চিত্র নির্মাণে সমস্ত কাজের অগ্রাধিকার দেবেন। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে অনেক, কিন্তু প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেই। এগুলোর সুবব্যস্থা করব। সরকারের সিনেপ্লেক্স প্রকল্প এগিয়ে নিতে কাজ করব। সিনেমা হলের দুর্নীতি রোধ করে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করব।’

এ ছাড়া এই বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন দেখতে, অঞ্জনা, ওমর সানী, অমিত হাসান, নিরব, সাইমন সাদিক, জেসমিন, অধরা খান, মিষ্টি জান্নাতদের মতো অনেক অভিনয়শিল্পী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোট উৎসবে উপস্থিত ছিলেন।

এই সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট। ২০১১-১৩ মেয়াদি এই নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হন যথাক্রমে সোহেল রানা ও ডিপজল। এরপর কমিটির মধ্যে নানা জটিলতার কারণে আর নির্বাচন হয়নি। সরকারি প্রশাসক দিয়ে চলে আসছিল এই সমিতি। এরপর ২০১৬-১৮ মেয়াদি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রশাসক। কিন্তু প্রযোজক সমিতির গঠনতন্ত্র ৯(গ) ধারা দেখিয়ে একজন প্রযোজক হাইকোর্টে মামলা ঠুকে দিলে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: