,


কতটা কথা রাখলেন মেয়র

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে আরিফুল হক চৌধুরী নগরকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার তাঁর দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এক বছর পূর্ণ হলো। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে তিনি অনেকটাই অগ্রগতি দেখাতে পেরেছেন বলে মনে করছেন নগরের বাসিন্দারা। নগরবাসী মেয়রের কর্মতৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

গত বছরের ৩০ জুলাই সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট ছাড়া বাকি দুটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জয়ী হন। কেবল সিলেটে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী জয় পান। নির্বাচনের আগে আরিফুল তাঁর ইশতেহারে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলে তরুণদের নিয়ে ‘ড্রিমটিম’ গঠন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এসব তরুণের সমন্বয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সিলেট গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

গত তিন দিন নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে অর্ধশতাধিক নাগরিকের কাছে একটি প্রশ্ন রাখা হয়। নির্বাচন শেষ হওয়ার এক বছরের সময়কালে মেয়রের সাফল্য কেমন দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মোটামুটি সবাই ‘সন্তোষজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, নগরের উন্নয়নে মেয়র যথেষ্ট আন্তরিকতার পরিচয় রাখছেন। নানা সময়ে ইতিবাচক কাজ করে মেয়র নিয়মিতভাবেই নগরবাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করে নিচ্ছেন। দলমত-নির্বিশেষে সবার পরামর্শে তিনি নগরকে অত্যাধুনিক করতে ভূমিকা রাখছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নগরে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় নগরবাসীকে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন।

নাগরিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েও আরিফুল হক নগরের উন্নয়নে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করে চলেছেন। ফুটপাত দখলমুক্ত করাসহ নাগরিকসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তিনি সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতাদের সঙ্গে বসে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এতে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি আরও বেড়েছে। দিনরাত কাজ করে তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন।

কয়েকজন নাগরিক জানিয়েছেন, আরিফুল হক চৌধুরী প্রায় ১১ মাস আগে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নিয়েছেন। খুব বেশি সময় অতিবাহিত না হওয়ায় এখনো তাঁর কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন করার সময় আসেনি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জলাবদ্ধতা তিনি অনেকটাই নিরসন করতে পেরেছেন। তবে তরুণদের নিয়ে ‘ড্রিমটিম’ গঠন এবং হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট চালুর উদ্যোগ তিনি এখন পর্যন্ত নিতে পারেননি। ফুটপাত উচ্ছেদে মাঝেমধ্যে ভূমিকা রাখলেও প্রথম দফার মতো এখনো সেটা সেভাবে দৃশ্যমান হয়নি। এ ছাড়া এখনো নগরে বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়ে গেছে।

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় শ কোটির টাকার কাজ চলমান রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এসব উন্নয়নকাজই মেয়রের ‘আগামীর সিলেট’ পরিকল্পনার প্রথম ধাপের কাজ। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তা ও নর্দমা সম্প্রসারণ, ভূগর্ভস্থ বিদ্যুতের লাইন এবং ইন্টারনেট-ডিশের কেব্‌ল সংযোগ স্থাপন, ছড়া-খাল দখলমুক্ত করার পাশাপাশি খনন ও সম্প্রসারণ করার কাজ। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, এসব উন্নয়নকাজ খুবই ধীরগতিতে চলছে। এতে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ছে। এ ছাড়া একেকটি এলাকায় একাধিক উন্নয়নকাজ শুরু করা অপরিকল্পিত পরিকল্পনার অংশ বলেই তাঁরা মনে করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের জিন্দাবাজার, বারুতখানা, জেলরোড, মীরাবাজার, সোনারপাড়া, পাঠানটুলা, মদিনা মার্কেট, সুবিদবাজার, মীরের ময়দান এলাকায় রাস্তার পাশ খোঁড়াখুঁড়ি করে নর্দমা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এতে করে রাস্তাগুলো সরু হয়ে যাওয়ায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। বিশেষত জিন্দাবাজার এলাকায় কালভার্ট নির্মাণ, নর্দমা সম্প্রসারণ এবং ভূগর্ভস্থ বিদ্যুতের লাইন এবং ইন্টারনেট-ডিশের কেব্‌ল সংযোগ স্থাপনের কাজ একসঙ্গে চলায় নগরবাসী দুর্ভোগে পড়ছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নগরের ২৭টি ওয়ার্ডজুড়ে পুরোদমে উন্নয়নকাজ চলছে। বর্তমান মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান। তবে এসব কাজের সুফল এরই মধ্যে নগরবাসী পেতে শুরু করেছেন। প্রায় দেড় শ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলছে, অবশ্য এসব নির্মাণকাজের মেয়াদকাল এখনো শেষ হয়নি। তাই ধীরগতিতে কাজ চলছে, এমনটি খুব একটা বলা যাবে না।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: