,


হত্যার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ৪ পরিবার ঘরছাড়া

হত্যার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ৪ পরিবার ঘরছাড়া

মিরাজ,বগুড়াঃ পরিবারের এক সদস্যের হত্যার প্রতিশোধ নিতে জামিনে থাকা আসামির হাত-পা ভাঙার পর বাদী পক্ষের চারটি পরিবার তিনটি মামলা মাথায় নিয়ে ঘরছাড়া হয়েছে। তাদের বাড়ি ঘরে হামলার আশঙ্কায় এখন পুলিশ পাহারা দিচ্ছে।
শনিবার (৩ আগস্ট) বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বর্ষণ চেচুয়াপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গ্রামটিতে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এর মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুইজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, বর্ষণ চেচুয়াপাড়া গ্রামের হায়দার আলী খুন হন ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর। ঐ মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন শাহীন সম্প্রতি জামিনে বের হন। এরপর হায়দার হত্যা মামলার বাদী হায়দার আলীর চাচা আব্দুল গফুর ও তার ভাই-ভাতিজারা বুধবার (৩১ জুলাই) রাতে আনোয়ার হোসেনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেন।
এ ঘটনায় শাহীনের বাবা সামছুল হক বাদী হয়ে গফুর সহ তার পরিবারের ৯ জনের নামে থানায় মামলা করেন। এর একদিন পর শুক্রবার সন্ধ্যায় গফুরের জামাতা আব্দুস সালাম তিনটি মোটরসাইকেল যোগে কয়েকজন যুবকসহ চেচুয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে হায়দার হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের খুঁজতে থাকেন।

এ সময় ঐ গ্রামের লোকজন তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা গুলি করেন। এতে জামাল ও পুটু মিয়া নামের দুইজন গুলিবিদ্ধ হন। গফুরের জামাতা আব্দুস সালাম পিস্তলসহ গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়েন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় তার মোটরসাইকেলটি।
এরপর থেকেই পাল্টে যায় গ্রামের চিত্র। হত্যা মামলার বাদী গফুরসহ তার ভাই ভাতিজাদের চারটি পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। গ্রামবাসী তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কয়েকটি খড়ের গাদায় আগুন দেয়।
এরপর থেকেই সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পিস্তলসহ গ্রামবাসীর হাতে আটক আব্দুস সালামকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায় এবং তার নামে পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করে।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবির বলেন, চেচুয়াপাড়ায় সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জামাল ও পুটু মিয়া গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আরও একটি মামলা হবে।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: