,


ঈদ যাত্রায় সড়ক পথে বন্ধ হোক মৃত্যুর মিছিল

ঈদ যাত্রায় সড়ক পথে বন্ধ হোক মৃত্যুর মিছিল

প্রতি বছর ঈদ যাত্রায় নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে মানুষের ঢল নামে সড়কে। সড়কের আয়তনের তুলনায় গাড়ীর চাপ অধিক হওয়ায় অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পরে সড়ক মহাসড়ক গুলো।যানবাহনের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা অধিক থাকার কারণে যানবাহন সংকটে পরে ঘরমুখো যাত্রীরা । তাঁরা যে কোনো উপায়ে বাড়ি ফিরতে চায় কেও বা বাসের ছাদে ট্রাকে কেও বা পণ্য পরিবহনের গাড়িতে অন্য দিকে গাড়ির মালিক গণ অধিক যাত্রী থাকার কারণে অধিক মুনাফা লাভের আশায় ফিটনেস বিহীন গাড়ি দিয়ে যাত্রী পরিবহন করে থাকে যার ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা।বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হল সড়কে অব্যবস্থাপনা এবং অসচেতনতা। ঈদের সময় যাত্রী অধিক থাকার কারণে একজন চালক অধিক ট্রিপ দিয়ে থাকে ছয় ঘন্টা অন্তর অন্তর বিশ্রাম নেওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা ক্লান্ত পরিশ্রান্ত অবস্থায় একাধিক ট্রিপ দিয়ে থাকে যার ফলে একসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। তাই এই সময়ে একজন চালকের বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি।সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ হল দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্তা বা ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করা। এই সময়টিতে যাত্রী চাপ বেশি থাকার কারণে স্বল্প সময়ে অধিক ট্রিপ দিতে গিয়ে চালক গণ ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করে থাকে। সাধারণত উল্টো পথে গাড়ি চালানো ,রোড সাইন অমান্য করা ,ধীর গতির যানবাহন মহাসড়কে চলাচলের করা ইত্যাদি ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি অন্যতম কারন অবৈধ অভারটেকিং ঈদের সময় যাত্রী চাপ বাড়ার কারণে দ্রুত গন্তব্যে পৌছাতে ওভারটেকিং করে থাকে । সাধারণত রাস্থায় ধীর গতির গাড়ি সুমহকে অভারটেকিং এর প্রয়োজন পড়ে । এসময় হর্ন বাজিয়ে সামনের গাড়িকে সংকেত দিতে হবে কিন্তু অনেক সময় সংকেত না দিয়ে একজন আরেকজন কে অভারটেকিং এর প্রতিযোগিতা শুরু করে যার ফলে সামনের দিক হতে আসা গাড়ি বের হতে না পেরে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ।তাই ওভারটেকিং এর যথাযথ নিয়ম মেনে সতর্কতার সাথে ওভারটেকিং করা উচিত । বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি অন্যতম কারন হল ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ব্যাবস্থা মহাসড়ক গুলোতে বাঁক থাকার কারনে সামনের দিক হতে আসা গাড়ি কে দেখতে না পাওয়া যার ফলে দুটি গাড়ি মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ,রাস্তার পাঁশে হাঁট বাঁজার স্থাপন ওভার ব্রিজ না থাকা সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ ।সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি অন্যতম কারণ হল মহাসড়ক গুলোতে দ্রুতগতির যান বাহনের সাথে ধীর গতির যানবাহনের পাল্লা দিয়ে চলাচল গতির তারতম্য থাকায় দ্রুতগতির গাড়ির সাথে ধীর গতির গাড়ির ধাক্কা লেগে রাস্তা থেকে ছিটকে পরে দুর্ঘটনা ঘটায় । তাই মহাসড়ক গুলোতে ধীর গতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে । বিশেষ করে সি এন জি ,নসিমন ,করিমন লেগুনা প্রভূতি জাতিয় গাড়ী মহাসড়কে চলাচল বন্ধ করতে হবে প্রয়োজন বোধে তাঁদের জন্য আলাদা বা বিকল্প লেনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি অন্যতম কারণ চালকের মাদক গ্রহণ। ক্লান্তি দূর করার জন্য অনেক চালক মাদক গ্রহণ করে থাকে এছাড়াও মোবাইল এ কথা বলা এবং অদক্ষ চালকের কারণে সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। গাড়ির ছাদে বা পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী হয়ে যাওয়া উচিত নয় কারণ এতে সামান্য দুর্ঘটনাতে অধিক ক্ষয় ক্ষতির সম্ভবনা থাকে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও সড়ক দুর্ঘটনা কমানো যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়কে মৃত্যুর মিছিল ,মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। ঈদ যাত্রা তাদের জন্য হয়ে উঠছে মৃত্যু যাত্রা। ঈদ আনন্দের হলেও নিহত পরিবার গুলোর জন্য হয়ে উঠছে বিষাদের। তাই সড়কে মৃত্যুর মিছিল আর যেন দীর্ঘ না হয়। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থা নিতে হবে। দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিশ্চিত করতে হবে এবংঈদ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার মালিক শ্রমিক চালক যাত্রী সবাই কে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।

 

মোঃ আল আমিন নাহিদ

লেখকঃ সদস্য রিসার্চ সেল
যাত্রী অধিকার আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি।
সিনিয়র নির্বাহী (সেবা )
রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড।
০১৭৩৭৩৫০২১৪

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: