,


কাশ্মীরের সেনা কর্মকর্তা হয়ে আসছেন মহেশ বাবু

কাশ্মীরের সেনা কর্মকর্তা হয়ে আসছেন মহেশ বাবু

ডেস্ক রিপোর্টারঃভারতের তেলেগু ছবির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা মহেশ বাবু নতুন ছবির টিজার প্রকাশ পেয়েছে। ‘সেরিলেরু নেকাভ্রারু’ ছবি টিজার প্রকাশ পেয়েছে গতকাল শুক্রবার তাঁর ৪৪ তম জন্মদিন উপলক্ষে। প্রকাশের পরই বেশ সাড়া ফেলেছে টিজার। কারণ ভারতের কাশ্মীরে সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ছবিতে দেখা যাবে তাঁকে। ইতিমধ্যে ৬০ লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন মহেশের নতুন ছবির টিজার। জন্মদিনে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে।

‘মহর্ষি’ ছবির ব্যাপক সাফল্যর পর মহেশ বাবু তাঁর নতুন ছবি নিয়ে খুব আশাবাদী। পরিচালক অনিল রাভিপুডু পরিচালিত ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী বছর। ৪৪ সেকেন্ডের টিজারে দেখা গেছে, মহেশ বাবু আসছেন কাশ্মীর রক্ষায় এক সেনার ভূমিকায়। ছবিতে আরও আছে রেশমিকা মান্দানা ও প্রকাশ রাজ।

মহেশ বাবু দক্ষিণে চলচ্চিত্রের সুপারস্টার হিসেবে পরিচিত। দক্ষিণে চলচ্চিত্রের সুপারস্টার হিসেবে তিনি পরিচিত। পারিবারিক নাম মহেশ ঘাট্টামানেনি। তিনি ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট জন্ম গ্রহণ করেন।

‘প্রিন্স অব টলিউড’ মহেশ বাবু ভারতের দক্ষিণের ছবির অন্যতম এক সুপারস্টার। অভিনয় প্রতিভা আর নিজস্ব ভঙ্গিমার কারণে তাঁকে অনেকেই ‘প্রিন্স অব টলিউড’ বলেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার ‘মোস্ট ডিজায়ারেবল ম্যান’ ২০১১ সালে তার অবস্থান ছিল পঞ্চম, ২০১২ সালে দ্বিতীয়, এবং ২০১৩ সালে হৃতিক রোশন, শাহরুখ খান ও সালমান খানদের পেছনে ফেলে শীর্ষে চলে আসেন দক্ষিণী ছবির এ প্রিন্স।

বাবা কৃষ্ণ ঘাট্টামানেনি নামকরা অভিনেতা হওয়ার সুবাদে ছবির জগতে প্রবেশে বেগ পেতে হয়নি সুপারস্টার মহেশকে। ১৯৭৯ সালে মাত্র চার বছর বয়সে ‘নিদা’ নামক একটি ছবির মধ্য দিয়ে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। এরপর চাইল্ড আর্টিস্ট হিসেবে একে একে আরও নয়টি ছবিতে নাম লিখিয়েছেন।

তবে নায়ক হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক ১৯৯৯ সালে রাঘাবেন্দ্র রাও পরিচালিত ‘রাজা কুমারুডু’ ছবির মাধ্যমে। বক্স অফিসে ছবিটি ওই সময় প্রায় ১১ কোটি রুপি আয় করে বোদ্ধাদের রীতিমতো চমকে দিয়েছিল। তেলেগু ছবির ইতিহাসে যা ছিল অভিষেকে কোনো নায়কের ছবিতে সর্বোচ্চ আয়। এই ছবির জন্য তিনি সেরা নবাগত অভিনেতা ক্যাটাগরিতে নন্দি অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যান। এসব সাফল্যর পরই নামের সঙ্গে ‘প্রিন্স’ টাইটেল জুড়ে দেওয়া হয়।

২০০০ সালে মুক্তি পায় দ্বিতীয় সিনেমা ‘যুবরাজু’, একই বছর ‘ভামসি’ও মুক্তি পায়। ছবি দুটি বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি। তবে ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মুরারি’ ছবিটি ছিল তার ক্যারিয়ারে টার্নিং পয়েন্ট। কৃষ্ণা ভামসির পরিচালনায় ছবিটি অভাবনীয় সাফল্য পায়। ২০০৩ সালে মুক্তি পায় গুনা শেখরের ব্লকব্লাস্টার হিট ছবি ‘ওক্কাডু’। এতে একজন তরুণ কাবাডি খেলোয়াড় হিসেবে দর্শকদের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন।

সমালোচক ও দর্শকেরা মহেশের অভিনয় বেশ পছন্দ করেন। ক্যারিয়ারে চারটা ফিল্মফেয়ার, আটটা নন্দি, পাঁচটা সান্তোসামসহ বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন।

২০০৫ সালে ত্রিভিক্রম শ্রীনিবাসের ‘আতাডু’ ছবি দিয়ে বক্স অফিস মাত করেন মহেশ। ছবিটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিত করে তুলে মহেশকে। পরের বছরের ‘পকিরি’ ছিল মহেশের ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এটি ছিল সর্বোচ্চ আয় করা কোনো তেলেগু ছবি। ব্লকবাস্টার এই ছবিটি তামিল, হিন্দি এবং কন্নডসহ বিভিন্ন ভাষায় রিমেক হয়। বলিউডের অন্যতম ব্লকবাস্টার সালমান খানের ‘ওয়ান্টেড’ ছবিটি এই পকিরি ছবির রিমেক। তার অভিনীত বক্স অফিসে সাড়া জাগানো আরও কয়েকটি ছবির মধ্য অন্যতম হচ্ছে ‘বিজনেসম্যান’, ‘শিথামা ভাকিতলো সিরিমাল্লে চেট্টু’, ‘নেনোক্কাডিন’, ‘এনকাউন্টার শংকর’, ‘থ্রিমানথুডু’, ‘ভারত’ ও ‘মহর্ষি’। মহেশ বাবু তেলেগু নায়ক হলেও এ ছবিগুলো তাঁকে ধীরে ধীরে পুরো ভারতে জনপ্রিয় করে তুলেছে। আর এ জন্য অনেক সিনেমা বিশ্লেষক মহেশ বাবুকে দক্ষিণের কিং হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তামিল নাড়ুর চেন্নাইয়ে জন্ম মহেশ বাবুর। ‘বাস্তব’ ও ‘পুকার’সহ বেশ কয়েকটি বলিউড ছবির অভিনেত্রী নম্রতা শিরোদকারের সঙ্গে মহেশ দীর্ঘ প্রেমের পর বিয়ে করেন ২০০৫ সালে। ছেলে গৌতম আর মেয়ে সিতারাকে নিয়ে হায়দারাবাদের আলিশান বাংলোতে মহেশের সাজানো সংসার।

মহেশ সাতটি রাজ্য নন্দী পুরস্কার, চারটি ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতা, তিনটি সিনেমা পুরস্কার এবং একটি দক্ষিণ ভারতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। তিনি অন্ধ্র প্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু পণ্যের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করেন। তিনি ভারতের জনপ্রিয় কোমল পানীয় থামস আপের জাতীয় শুভেচ্ছা দূত।

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: