,


এম, এ হামিদ সাহিত্য জাতির দর্পণস্বরূপ ॥ হাদিউল হৃদয় 1

এম, এ হামিদ সাহিত্য জাতির দর্পণস্বরূপ ॥ হাদিউল হৃদয়

র্থিক দৈন্যতা চলনবিলের বাসিন্দাদের প্রধান সমস্যা। পশ্চাৎপদ চলনবিলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য চলনবিল অঞ্চলকে ‘চলনবিল জেলা’ নামে একটি নতুন জেলা গঠন করার দাবী সর্বপ্রথম প্রস্তাবিত করেন সেই মানবদরদী মহাপ্রাণ ব্যক্তিত্ব লেখক, সমাজসেবক, সমাজসংস্কারক, গবেষক ও চলনবিলের কিংবন্তী। যিনি উত্তরবঙ্গ তথা সমগ্র বাংলাদেশের বিশেষ করে চলনবিলের সচেতন মানুষের মনে হ^দয়ে বেঁচে আছেন।

কোন মহামানবের কথা বলছি না- সাধারণ মানুষের মধ্যেও পৃথিবীতে মাঝে মাঝে কিছু বিশেষ মানুষের আবির্ভাব ঘটে যারা তাদের কাজের মাধ্যমে গণ মানুষের অন্তরোৎসারিত সীমাহীন ভালবাসা আর শ্রদ্ধার অর্জন নিয়ে সবার মনের মনিকোঠায় চিরদিন অমলিন আভায় দীপ্যমান থাকেন। সেই সব ক্ষণজন্মা মানুষেরই একজন প্রফেসর এম. এ. হামিদ। অত্যন্ত সরল, সদালাপী, নির্লোভ নিরঅহংকার, সদাহাস্যময় কিন্তু বিদ্যা, বুদ্ধি, কর্মদক্ষতা ও জ্ঞান গরিমায় অনন্য, অসাধারণ একজন সাধারণ মানুষ। সত্তর দশকের কথা। তখন আমার জন্ম হয়নি। তবে তার বই এবং আবদুর রাজ্জাক রাজু সম্পাদিত চলনবিল রত্ন বই পড়ে তার সম্পর্কে আজকে লেখা। আমার চোখে জল এসেছিলো দুচোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে গড়িয়ে পরছিল তাকে নিয়ে বিভিন্ন লেখকের লেখা স্মরণিকা চলনবিল রত্ন বইটি আলোচনা লেখার সময়। বেশি কষ্টদায়ক মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি স্বপ্নের চলনবিল গড়ার কাজে নিজকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন তাঁর স্বপ্নের ‘চলনবিল জেলা’ বাস্তবায়িত হবেই। আমিও বিশ্বাস করি একদিন তাঁর স্বপ্নের ‘চলনবিল জেলা’ হবেই, শুধু বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

মরহুম অধ্যক্ষ এম, এ হামিদ সাহেব ১৯৩০ সালের ১ মার্চ নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলারর খুবজীপুর গ্রামের এক বিত্তবান কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ৭৬ বছর বয়সের কোটায় দাঁড়িয়ে তাঁর মন, প্রাণ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের যৌবনের গান প্রবন্ধের দিকে আকর্ষিত করে তোলে। যা বর্তমান সমাজে বিরল। তাঁর স্বতঃস্ফুর্ত মানসিক শক্তি ও ধৈর্য সহিẳতা দেখে বাংলাদেশের সর্বস্তরের বুদ্ধিজীবি, পেশাজীবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, কর্মজীবি ও সমাজকর্মিসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ শেষ পর্যন্ত এটাই অনুভব করেছিলেন যে, তিনি সেই বিশেষ দার্শনিক ভঙ্গির অনুসঙ্গী। যিনি মনে করেন জীবন একটি ক্রমান্তরের যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে সমাজ সংস্কারের জন্য লড়ে যেতে হবে সারাটি জীবন। যে লড়াইয়ের শেষ নেই, অবসরের কোন অবকাশ নেই। সেই মহান ব্যক্তিত্বের প্রহাপ্রয়াণ হয়েছিলো আজ থেকে ১২ বছর আগে। তিনি ২০০৬ সালের ২৪ আগষ্ট মৃত্যু বরণ করেন।

এমন একজন আলোকিত মানুষ চলনবিলবাসী জন্য সত্যই মুগ্ধকর। আমি নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে করি। এই চলনবিলে জন্ম গ্রহণ করেছি বলে। একটি রাষ্ট্র বা একটি এলাকা তখনই বড় হয়, যখন ঐ এলাকার মানুষগুলো বড় হয়। ইতিহাস খুঁজলে দেখতে পাই যে জাতি যখন মহামানবদের জন্ম দিয়েছে, সে জাতি তখনই উত্তীর্ণ হয়েছে সমৃদ্ধির চরম শিখরে। আলোকিত মানুষ তারাই যারা নিজেদের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে আমরা চলনবিলবাসী এমন এক আলোকিত মানুষের দেখা পেয়েছি। এ মহৎ মানুষের আত্মত্যাগের ফসল আজকের এই খুবজীপুর তথা চলনবিল।

এম. এ. হামিদ একজন সুসাহিত্যিক। তিনি আমাদের উপহার দিয়েছেন ২৬টি মূল্যবান গ্রন্থ। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য: চলনবিলের ইতিকথা, বঙ্গাব্দ সমাচার, দেখে এলাম অস্ট্রেলিয়া, জ্ঞানের মশাল, কর্মবীর সেরাজুল হক, আমাদের গ্রাম, শিক্ষার মশালবাহী রবিউল করিম, পাশ্চাত্যের বৈশিষ্ট্য প্রভৃতি। ‘আমাদের গ্রাম’ বইখানিতে খুবজীপুর গ্রামকে কী সুন্দরভাবেই না উপস্থাপন করেছেন জনাব আব্দুল হামিদ; তা ভাবলে অবাক হতে হয়। এ গ্রন্থটি গবেষণামূলক গ্রন্থের দাবি করতে পারে। ভবিষ্যতে যারা বাংলাদেশের গ্রাম নিয়ে গবেষণা করবেন, তাদের কাছে ‘আমাদের গ্রাম’ গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। ‘আমাদের গ্রামের’ মত গ্রন্থ খুব কমই রচিত হয়েছে। খুবজীপুরকে কেন্দ্র করে জনাব আব্দুল হামিদের যে ভালবাসা, যে আগ্রহ, তার ছাপ রয়েছে ‘আমাদের গ্রাম’ বইয়ের প্রতি পাতায়। এই বইটি সমাজকল্যাণ-বিজ্ঞানের জন্য যেমন দরকারী, তেমনি ঐতিহাসিক, ভূতাত্ত্বিক, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মীর জন্যও খুব দরকারী। মহৎ কর্মময় জীবনের আর একখানি চিত্র আমরা পাই ‘কর্মবীর সেরাজুল হক’ গ্রন্থে। এ গ্রন্থখানি জনাব এম. এ. হামিদ তাঁর অপরিসীম ধৈর্য্য ও নিষ্ঠা নিয়ে রচনা করেছেন। তিনি এই গ্রন্থের এক জায়গায় লিখেছেন, “চলনবিলের সুমহান কর্মবীর সেরাজুল হকের জীবনী হতে দেশের তরুণ ও ছাত্র সমাজের বহু কিছু শিক্ষণীয় আছে। তাঁর ছাত্র জীবনের সাথে বর্তমান ছাত্রদের সাধনার তুলনা করলে হতাশ হতে হয়।” তাঁর আর একটি অনবদ্য সৃষ্টি ‘দেখে এলাম অস্ট্রেলিয়া’। এ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে। আগ্রহের অতিশয্যে ‘দেখে এলাম অস্ট্রেলিয়া’ পড়ে ফেললাম। লেখক ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দের রমযান মাসে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। পুরো অস্ট্রেলিয়া ঘুরে ঘুরে দেখার সৌভাগ্য তাঁর না হলেও যে কয়টি শহর দেখেছেন, তার নিখুঁত বর্ণনা তিনি দিয়েছেন। এই বর্ণনায় গোটা অস্ট্রেলিয়ার একটা চমৎকার চিত্র আমরা লেখকের চোখ দিয়ে অবলোকন করতে পারি। জনাব এম. এ. হামিদের সর্বশ্রেষ্ঠ গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘চলনবিলের ইতিকথা’। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে এ গ্রন্থখানি প্রকাশিত হয় এবং বহু সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। “একটি বিলকে কেন্দ্র করে গবেষণা গ্রন্থ রচিত তাঁর। “জলাভূমির প্রত্যেকটির পশ্চাতে আছে প্রাণবন্ত ইতিহাস, আছে বিস্ময়কর কিংবদন্তিু-যেগুলো শুধু ঐতিহাসিকের নয়, সাহিত্যিকেরও চিন্তার ও সৃষ্টির বিষয়বস্তু হতে পারে। চলনবিল এই জাতীয় একটি জলাভূমি। এই বিলের চারিধারে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন হাসি-কান্না-বেদনায় ভরা জীবনের সমারোহ। গড়ে উঠেছে নতুন নতুন ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রবাহ। চলনবিল ছিল উত্তরবঙ্গের, তথা বাংলার একটি কেন্দ্রবিন্দু। যেখান থেকে প্রাণ-চাঞ্চল্যের প্রস্রবন বিভিন্ন দিকে প্রবাহমান ছিল। সুতরাং এই বিলের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হওয়া মানেই উত্তর বাংলার একটি বিশিষ্ট অঞ্চলের জীবনেতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। সুখের বিষয় ‘চলনবিলের ইতিকথা’ গ্রন্থের লেখক এসব দিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখেই তাঁর গ্রন্থ রচনার মহান দায়িত্ব পালন করেছেন। বিষয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গতা স্থাপনে লেখকের কোথাও যে গলদঘর্ম হতে হয় নি গ্রন্থটি পড়লে তা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। একদিকে লেখকের সুস্পষ্ট ইতিহাস চেতনা এবং অন্যদিকে বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে তাঁর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির স্পর্শ গ্রন্থটিকে নিঃসন্দেহে একটি বিশিষ্ট মর্যাদা দান করেছে। তাঁর এই প্রচেষ্টা আমাদের ভবিষ্যত গবেষকদের-অনুসন্ধানবিদদের পথ নির্দেশনা দান করবে বলে আমি বিশেষভাবে আশা পোষণ করছি। গ্রন্থটি নিঃসন্দেহে আমাদের সম্মুখে একটি নতুন সম্ভাবনার দিক উন্মোচন করেছে এবং বহুদিনের একটি অভাব পূরণ করেছে।”

এম. এ. হামিদ সাহেবের আরও একটি কৃতিত্ব ‘বঙ্গাব্দ সংস্কার’। বাংলা সনের বিভিন্ন মাসের দিন সংখ্যা নির্দিষ্ট না থাকায় বাংলা তারিখের হিসাব ঠিক রাখা; ডাইরী, ক্যালেন্ডার ও পঞ্জিকা তৈরীতে অত্যন্ত অসুবিধা দেখা যেতো। এই অসুবিধা দূর করার লক্ষ্যে এম. এ. হামিদ ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের ২৩ অক্টোবর ঢাকাস্থ বাংলা একাডেমীতে ‘বাংলা বিভিন্ন মাসের দিন সংখ্যা’ নির্দিষ্ট করার একটি প্রস্তাব পেশ করেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ২২ অক্টোবর বাংলা একাডেমীর ৪৯তম সভায় ‘বাংলা সনের বিভিন্ন মাসের তারিখ নির্ধারণ উপসংঘ’ গঠিত হয়। পরে বাংলাদেশের মন্ত্রী পরিষদ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে ১৩৯৫ বঙ্গাব্দের ৫ আষাঢ় (১৯/০৬/১৯৮৮ খৃ:) তারিখে বাংলা একাডেমী কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন। বত্রিশ বছরের একনিষ্ঠ চেষ্টা ও সাধনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়। পরবর্তীতে এম. এ. হামিদ সাহেব বাংলাদেশ সরকার ও বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষ সমীপে বাংলা ও ইংরেজি তারিখের স্থায়ী মিল রক্ষার্থে বঙ্গাব্দের লীপ-ইয়ারের কিছুটা সংস্কার প্রস্তাব করেন। বঙ্গাব্দের ক্ষেত্রে ৪ দ্বারা বিভাজ্য বঙ্গাব্দকে লীপ-ইয়ার ধরতে হবে এবং ‘লীপ-ইয়ার’ বঙ্গাব্দে চৈত্র মাসের পরিবর্তে ফাল্গুন মাস ৩১ দিনে গণনা করতে হবে। চৈত্র মাস সর্বক্ষেত্রে ৩০ দিনই থাকবে। এই হিসেবে সকল বঙ্গাব্দে ও খ্রিস্টাব্দে ৮ ফাল্গুন হবে ২১ ফেব্রুয়ারি, ১ বৈশাখ হবে ১৪ এপ্রিল, ১১ জ্যৈষ্ঠ হবে ২৫ মে, ২৫ বৈশাখ হবে ৮ মে। বর্তমানে এম. এ. হামিদ কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা অনুুযায়ী বঙ্গাব্দের তারিখের হিসাব, ডাইরী, ক্যালেন্ডার ও পঞ্জিকা তৈরী করা হয়। অথচ ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে – একটি স্বার্থান্বেষী মহল এম. এ. হামিদের এই অনন্য অবদান তাদের পূর্ব পুরুষের কৃতিত্ব বলে চালাতে চাচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং বিষয়টির প্রতি যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মনীষী এম. এ. হামিদের যথার্থ মূল্যায়ন না হলেও তিনি এ পর্যন্ত অনেক পুরস্কার, সনদ ও খেতাব লাভ করেছেন- (১) ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স’ (১৯৭৬ খ্রি:) জয়পুরহাট ‘হিলফুল ফুজুল’ সংস্থা হতে আদর্শ শিক্ষক হিসেবে। (২) গবেষণা ও সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এম. এ. হামিদকে ‘তমঘায়ে খেদমত (টি. কে)’ খেতাব ও স্বর্ণপদক দিয়েছিলেন; কিন্তু ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের রিডার ড: শামসুজ্জোহার হত্যার প্রতিবাদে তিনি টি. কে. খেতাব বর্জন করেন। (৩) বরেন্দ্র একাডেমী, রাজশাহী (০১-০২ এপ্রিল, ১৯৮৩ খ্রি:) হতে সাহিত্য সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ সংবর্ধনা ও সনদ লাভ। (৪) ‘গবেষণা বিশারদ’ (১১-০২-১৩৮৭ বঙ্গাব্দ) সিরাজগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ হতে গবেষণামূলক ইতিহাস রচনার জন্য। (৫) ‘পল্ল¬ীরতœ’ (২৭-১১-১৯৯২ খ্রি:) পাবনা জেলা সাহিত্য পরিষদ হতে। (৬) বগুড়ার ‘সাপ্তাহিক জীবন’ পত্রিকার সাহিত্যিক গোষ্ঠী প্রদত্ত ‘জীবন সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৮১ খ্রি:)। (৭) সাহিত্য অঙ্গনে অবদানের জন্য ‘উত্তরণ পুরস্কার ও সংবর্ধনা’ (১৯৯৪ খ্রি:) উত্তরণ লাইব্রেরী, কাশীনাথপুর, পাবনা হতে। (৮) ‘সিরাজী পুরস্কার’ (১৯৯৪ খ্রি:) সিরাজগঞ্জ কবিতা ক্লাব হতে। (৯) ‘কবি বন্দে আলী পুরস্কার’ (১৯৯৬ খ্রি:) বাংলাদেশ কবিতা ক্লাব, পাবনা জেলা শাখা কর্তৃক প্রদত্ত। (১০) ‘ভিক্টোরিয়া সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৯৯ খ্রি:) নাটোর ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরী কর্তৃক প্রদত্ত। (১১) সাহিত্য সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ সংবর্ধনা, পদক ও সনদ লাভ (২৭-৯-১৯৮১ খ্রি:)। ‘বগুড়া বারোয়ারী সাহিত্য আসর’ কর্তৃক প্রদত্ত। (১২) ‘বিদ্যাভূষণ’ (১৭-১১-১৯৮০ খ্রি:) যমুনা সাহিত্য সংস্থা, সিরাজগঞ্জ হতে প্রদত্ত।

সর্বশেষে আমার, আমাদের প্রত্যাশা বঙ্গাব্দ সংস্কারক ও সমাজ সংস্কারক আলোকিত মানব সরদার আব্দুল হামিদ এঁর জন্মদিন ও মৃত্যুদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলা একাডেমী তথা অন্যান্য শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হোক। তাঁর কর্মকান্ডের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে প্রেরণা ও দৃষ্টান্ত হিসেবে ভূমিকা রাখবে। তাঁর বিভিন্ন সেবামূলক কাজে শুধুমাত্র চলনবিল অঞ্চলই নয়, সমগ্র বাংলাদেশ উপকৃত, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। সরদার আব্দুল হামিদ সাহেব আমাদের অনেক কিছু দিয়েছেন বরং আমরা তাঁকে কিছুই দিতে পারি নি। আশা রাখতে পারি, বাংলাদেশ সরকার সরকারীভাবে মরণোত্তরকালে হলেও তাঁর মহান অবদানের মূল্যায়ন সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

একটি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হাদিউল হৃদয়

 

 

লেখক: কবি-সম্পাদক

 

Leave a Reply


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: